পীর হত্যার ঘটনায় ভক্তের বর্ণনা
‘ভেবেছিলাম আলোচনা করতে আসছে, বুঝিনি বাবাকে মেরে ফেলবে’
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ‘ভয়াবহ বর্ণনা’ উঠে এসেছে ভক্তদের কথায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ভক্ত জামিরন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা শুরুতে ভেবেছিনু কিছু মানুষ দরবারে আলোচনা করতে আসছে। কিন্তু পরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।’
তিনি বলেন, দুপুরের দিকে আমি দরবারের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেখি বেশ কয়েকজন মানুষ রড-লাঠি নিয়ে মিছিল করে আসছে। তারা স্লোগান দিতে দিতে দরবারে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে হামলাকারীরা দরবারের দোতলায় গিয়ে পীরের কক্ষে প্রবেশ করে দরজা ভেঙে ফেলে।
জামিরন বলেন, ‘তারা বাবাকে গলা ধরে টেনে বের করে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। মাথা, মুখ—সব জায়গায় আঘাত করে। পরে তাকে টেনে নিচে নামানো হয়।’
তিনি আরও বলেন, আহত অবস্থায় পীর হাতজোড় করে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাকে কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিচে নামানোর পরও তাকে পেটানো হচ্ছিল। তখন শুধু বলতে শুনেছি ‘ইয়া মুরশিদ’, এরপর আর কিছু বলতে পারেননি।
জামিরনের দাবি, হামলাকারীরা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন ছিল। তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম তারা আলোচনা করতে আসছে। বুঝতে পারিনি তারা এত বড় হামলা চালাবে। পরে বুঝেছি, তারা পরিকল্পনা করেই এসেছিল।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ধারণ করা ধর্ম অবমাননার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর শনিবার শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে দরবারে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা দরবারে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং পরে পীরকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই হামলা সংঘটিত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে