Views Bangladesh Logo

আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, বিগত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি: তারেক রহমান

আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, বিগত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি: তারেক রহমানপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, বিগত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। আন্দোলনে বিএনপি ও মিত্র দলের নেতাকর্মীরাই গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

রোববার বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি অব্যাহত রাখতে হলে অতীতে কারা কী ভূমিকা রেখেছে, তা বিবেচনায় রেখে বর্তমান রাজনীতিকেও মূল্যায়ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি এই রাজনীতির ধারা আমাদের অব্যাহত রাখতে হয়, যেই রাজনীতির ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, তাহলে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে; এদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে। সেই অতীত বিবেচনা করে তাদের আমাদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সেই অতীত বিবেচনা করেই আমরা ভবিষ্যতে তারা কী করছে, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে, ১৯৮৬ সালে, ১৯৯৬ সালে এবং বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা জনগণ দেখেছে। ‘বিগত ১৭ বছরের জনগণের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলনে তাদের আমরা রাজপথে দেখিনি। আন্দোলনে বিএনপিসহ বিএনপির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল মাঠে ছিল, তাদেরই নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম-খুনের শিকার হয়েছে।’

‘আজকে যারা বড় বড় কথা বলছে, যারা বলছে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে, তাদের আমরা রাজপথে বিগত ১৭ বছর দেখিনি,’ বলেন তিনি।

সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এরা সংস্কার-সংস্কার কথা বলছে। বিএনপি ২০২২ সালের সংস্কারের কথা বলেছে। কোথায় ছিলেন তখন আপনারা সংস্কার নিয়ে? সংস্কার এই দেশে সবচেয়ে প্রথম বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই সংস্কারের প্রস্তাবনা মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, এখন দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। ‘কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মতো, তাদের সমোচিত জবাব দিতে হবে—যে তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, তোমাদের অতীত আমরা জানি, তোমরা অতীতে কী করেছ। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেব না।’

কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চায় না বিএনপি সরকার; বরং এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা এবং নিজের প্রাপ্য মর্যাদা পাবে।

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের মতো বানাতে চাই না; আমরা বাংলাদেশকে এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে তৈরি করতে চাই, যেই রাষ্ট্রে কমবেশি প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করবে, সহযোগিতা দেবে; যেই রাষ্ট্রে প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি শ্রেণির প্রতিটি মানুষ তার মর্যাদা অনুযায়ী তার প্রাপ্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষকে ঘিরে এবং দেশের জন্য। কয়েকটি রাস্তা ও ভবন নির্মাণ করে উন্নয়নের দাবি না করে জনগণের জীবনমান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহ্বান
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সারা দেশে চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া, নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশে শান্তি বজায় রাখতে হবে।

চীনের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে বেশ কিছু মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে দেশের তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তারেক রহমান বলেন, এখন দেশ গঠনের সময়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ রাজপথে নেমে তা রক্ষা করেছে। এখন জনগণকে দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।

তিনি বলেন, এই দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। কাজেই এই ২০ কোটি মানুষকে আজকে সচেতন থাকতে হবে। ২০ কোটি মানুষকে আজকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এই যে বিএনপির যে রাজনীতি আপনাদের সামনে বললাম, এই রাজনীতিতে যাতে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।

তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিল্প-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন চান।

সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ