ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গোপালগঞ্জ জেলা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুরোপুরি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা গোপালগঞ্জ জেলা। এই জেলায় দেশের ইতিহাসে যেকটি স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে তার সবগুলোতে দাপটের সঙ্গে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিরোধীরা কোনো নির্বাচনেই আওয়ামী লীগকে এই জেলার কোনো আসনেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পানেনি। তবে এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় পাল্টে গেছে এই জেলার ভোটের অবস্থা। এক নজরে দেখে নেয়া যাক গোপালগঞ্জের ৩টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ের চিত্র।
গোপালগঞ্জ-১ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২১৫): জেলার মুকসুদপুর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার কিছু ইউনিয়ন নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৩৯৯৫১০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,০২,৮১৬ ও নারী ভোটার ১,৯৬,৬৯৪ জন।
প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে
মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে এম,আনিসুল ইসলাম, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে আশ্রাফুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে মো সেলিমুজ্জামান মোল্যা, স্বতন্ত্র কলস প্রতীকে মো. কাইউম আলী খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মুহাম্মাদ আবদুল হামীদ মোল্লা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে নীরদ বরন মজুমদার, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে মো. কাবির মিয়া, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে সুলতান জামান খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে কাজী আব্দুর রশিদ এবং ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে ফারুক খান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গোপালগঞ্জ-২ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২১৬): জেলার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ও কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা ইউনিয়ন, হাতিয়াড়া ইউনিয়ন, পুইশুর ইউনিয়ন, বেথুড়ী ইউনিয়ন, নিজামকান্দি ইউনিয়ন, ওড়াকান্দি ইউনিয়ন ও ফুকরা ইউনিয়ন নিয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনটি গঠিত। এখানকার মোট ভোটার ৩,৮৪,৩২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৯৪,০৬০, নারী ১,৯০,২৬২ ও হিজড়া ভোটার ৪ জন।
প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র টেলিফোন প্রতীকে কামরুজ্জামান ভূইয়া, স্বতন্ত্র তালা প্রতীকে রনী মোল্লা, জাকের পার্টি থেকে গোলাপ ফুল প্রতীকে মাহমুদ হাসান, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে সিপন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীকে শুয়াইব ইবরাহীম, স্বতন্ত্র টেবিল ঘড়ি মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে দ্বীন মোহাম্মাদ, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে উৎপল বিশ্বাস, স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকে এম, এইচ খান মনজু, উদীয়মান সূর্য প্রতীকে শাহ মফিজ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে কে এম বাবর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে তসলিম শিকদার ও জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীকে রিয়াজ সারোয়ার মোল্যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ২০০১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও ২০০৮ সালেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
গোপালগঞ্জ-৩ (জাতীয় সংসদের আসন নম্বর-২১৭): জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে গোপালগঞ্জ-৩ আসনটি গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৩,০৮,৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৫৮,৪০৩, নারী ১,৫০,৩৮০ ও হিজড়া ভোটার ১ জন।
প্রার্থী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মো. মারুফ শেখ, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকে মোঃ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে রিক্সা প্রতীকে আ. আজিজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে আম প্রতীকে শেখ সালাউদ্দিন, গণফোরাম থেকে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এস, এম, জিলানী ও গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) থেকে ট্রাক প্রতীকে আবুল বসার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে