Views Bangladesh Logo

ঈদের জামা নিয়েই ছিল বাড়ি ফেরার স্বপ্ন, সড়কেই তাদের শেষ যাত্রা

কেউ দুই মাস, কেউ আবার তিন মাস ধরে পরিবার থেকে দূরে ছিলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর, ফেরিওয়ালা ও নির্মাণশ্রমিকের কাজ করছিলেন তারা। ঈদ সামনে রেখে কষ্টের উপার্জনে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কিনেছিলেন নতুন জামা, খেলনা। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার আশায় বাড়ি ফিরছিলেন সবাই। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল তাদের শেষ যাত্রা।

টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন জেলার শ্রমজীবী মানুষ, যারা ঈদ উপলক্ষে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও আশপাশের এলাকায় কাজ শেষে তারা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ফিরছিলেন একটি রডবোঝাই ট্রাকে করে। ট্রাকের ভেতরে ছিল লোহার অ্যাঙ্গেল বার। তার ওপর ত্রিপল বিছিয়ে গাদাগাদি করে বসেছিলেন প্রায় ৩০ জন শ্রমজীবী মানুষ। কেউ ছিলেন দৈনিক মজুরির শ্রমিক, কেউ ফেরি করে ছোটখাটো পণ্য বিক্রি করতেন।

আহত তরিকুল ইসলাম জানান, তারা চারজন রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে ট্রাকে ওঠেন। চট্টগ্রামে তারা দৈনিক ভিত্তিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।

তিনি বলেন, দুপুর দুইটার দিকে দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে তারা ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকটিতে লোহার অ্যাঙ্গেল বারের ওপর ত্রিপল বিছানো ছিল। পরে ফেনি থেকে আরও ২২ জন এবং ঢাকা থেকে আরও চারজন ট্রাকে ওঠেন। সবাই গাদাগাদি করে বসেছিলেন। ঢাকা পার হওয়ার পর অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েন। পরে কখন ট্রাকটি উল্টে যায়, তা বুঝতেই পারেননি। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালে দেখতে পান তিনি।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার আব্দুল রহমান বলেন, তারা ১৮ জন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে লেস-ফিতা, শিশুদের খেলনা, কানের দুলসহ বিভিন্ন পণ্য ফেরি করে বিক্রি করতেন। প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা ব্যবসা করতে গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছিলেন সবাই।

তিনি জানান, ফেনি থেকে প্রতিজন ৩৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে ট্রাকে ওঠেন। পথে কয়েকবার ট্রাক থামিয়ে চালক চা-বিস্কুট খান। গাজীপুর পার হওয়ার পর সবার ঘুম পেতে শুরু করে। ভোরে টাঙ্গাইল ছাড়ার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। তিনি ছিটকে পড়ে প্রাণে বাঁচলেও অনেকে রডের নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা শ্রমিকদের অনেকেই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, কয়েক ঘণ্টার পথ কীভাবে তাদের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতিতে পরিণত হলো।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ