পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করে একটি চক্র, দাবি রায়হানের
সৎ মায়ের ওপর অভিমান করে চুল কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়া ১২ বছরের কিশোর রায়হান উদ্দিনের ঠাঁই হয়েছিল ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে, তবে একটি অপরাধচক্রের নির্মম শিকার হয়ে। কক্সবাজার থেকে কৌশলে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে শিশুটির ডান পা কেটে তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামায় চক্রের সদস্যরা। টানা সাত মাস পর অবশেষে নিজের পরিবারকে ফিরে পেয়েছে রায়হান।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে ১৯ দিনব্যাপী সীরত মাহফিলের সমাপনী দিনে ছেলে রায়হানকে খুঁজে পান তার বাবা নাজিম উদ্দিন। চুনতি ইউনিয়নের সাতগড় নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন সীরাত ময়দানে ছেলেকে দেখতে পাওয়ার খবর পান এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে। পরে তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
দীর্ঘদিন পর পঙ্গু অবস্থায় রায়হানের বাড়িতে ফেরার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা একনজরে তাকে দেখতে ভিড় জমান। শিশুটির ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ ঘটনায় জড়িত চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে রায়হান জানায়, কক্সবাজার থেকে একটি চক্র তাকে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং তার ডান পা কেটে ফেলে। এরপর কমলাপুর রেলস্টেশনে বসিয়ে ভিক্ষা করতে তাকে বাধ্য করা হতো। প্রতিদিনের আয়ের ৫০০ টাকা করে ওই চক্রের সদস্যদের হাতে তুলে দিতে হতো তাকে।
রায়হানের দাবি, এই চক্রের অধীনে তার মতো আরও অনেক শিশু আটকা পড়ে আছে। তবে তাদের কারো পরিচয় জানতে পারেনি সে। সমাপনী সীরত মাহফিলের সুযোগ নিয়ে সে কৌশলে ওই চক্রের হাত থেকে পালিয়ে লোহাগাড়ায় চলে আসে এবং সেখানেই ভাগ্যক্রমে বাবার দেখা পায়।
ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে ভেঙে পড়েন বাবা নাজিম উদ্দিন। তিনি জানান, চুল কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বহু খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের কোনো সন্ধান পাননি তারা।
অবর্ণনীয় এই নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের এমন পরিণতি যারা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
মতামত দিন