Views Bangladesh Logo

যেন সিনেমার গল্পই বাস্তবে ঘটালেন নায়ক বিজয়

দক্ষিণ ভারতে ব্যাপক সাড়া জাগানো সিনেমা ‘সরকার’। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি ভারতজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এর কাহিনি ছিল — একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী ভোট দিতে দেশে ফিরে দেখেন তার ভোট অন্য কেউ দিয়ে ফেলেছে। এরপর তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন, নিজেই রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যে সরকারও গড়েন। সিনেমাটির মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন থালাপতি বিজয়।

এবার যেন সেই সিনেমার গল্পকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন বিজয়। রুপালি পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নেমেই সিনেমার মতো চমকে দিয়েছেন সবাইকে। তার নবগঠিত দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) অভাবনীয় সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে।

প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই রাজ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিমুখী আধিপত্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই অগ্রযাত্রা তামিল রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে।

জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর থেকে থালাপতি বিজয়
এই সুপারস্টারের আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ‘থালাপতি বিজয়’ নামে। ১৯৭৪ সালের ২২ জুন চেন্নাইয়ে তার জন্ম। বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ছিলেন তামিল সিনেমার প্রখ্যাত পরিচালক, আর মা শোভা চন্দ্রশেখর একজন গায়িকা ও প্লেব্যাক শিল্পী।

শিল্প-সংস্কৃতিময় পরিবারে বেড়ে ওঠা বিজয় ছোটবেলা থেকেই প্রতিভার ছাপ রাখেন। তবে জীবনের শুরুর দিনগুলো ছিল বেদনাময়ও — মাত্র দুই বছর বয়সে তার একমাত্র বোন বিদ্যা মারা যান। বোনের স্মৃতি ধরে রাখতে বিজয় নিজের প্রোডাকশন হাউসের নাম রাখেন 'ভিভি প্রোডাকশনস' (বিদ্যা-বিজয় প্রোডাকশনস)।

পড়াশোনা করেছেন ফাতিমা ম্যাট্রিকুলেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল ও বালালোক ম্যাট্রিকুলেশন স্কুলে। উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন চেন্নাইয়ের লয়োলা কলেজে, ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশন বিষয়ে। তবে অভিনয়ের টান তাকে পড়াশোনার গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ক্যামেরার সামনে নিয়ে আসে।

মাত্র ১০ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় অভিষেক হয় বিজয়ের। নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে, 'নালাইয়া থিরপু' ছবির মাধ্যমে। শুরুর দিকে বক্স অফিসে তেমন সাফল্য না এলেও কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভার জোরে দ্রুত দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি। ২০০৩ সালের 'থিরুমালাই' ছিল তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো ছবি। এরপর একে একে 'ঘিলি', 'থুপ্পাকি' এবং সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার 'লিও' (২০২৩) তাকে নিয়ে যায় তামিল সিনেমার শীর্ষে। এ পর্যন্ত ৬৫টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

ভক্তরা তাকে ভালোবেসে ডাকেন 'থালাপতি', যার অর্থ 'সেনাপতি' বা 'নেতা'। তিনি ভক্তদের কাছে কেবল একজন তারকা নন, পরিবারের একজন সদস্যের মতোই আপন। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের একজন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২০ কোটি রুপি।

সিনেমা ছেড়ে বাস্তবের নেতা
ব্যক্তিজীবনে বিজয় ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন সঙ্গীতা সোরেশকে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সিনেমার পর্দায় যেমন তিনি অ্যাকশন হিরো, বাস্তব জীবনেও সামাজিক কাজের জন্য তিনি সমান পরিচিত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তার অবদান বহুবার প্রশংসিত হয়েছে।

তবে ভক্তদের বিস্মিত করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেমা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন থালাপতি বিজয়। গঠন করেন নিজের রাজনৈতিক দল 'তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম' (টিভিকে)। দল ঘোষণার আট মাস পর অক্টোবরে প্রথম জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "রাজনীতি সিনেমা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্র।"
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে টিভিকে হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি মাদুরাই জেলায় আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মাদুরাই পূর্ব আসন থেকে প্রার্থী হবেন তিনি। সেই সভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানান বিজয়, যা সারা ভারতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ