হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রিতে
হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করলেও এলাকায় বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। হাড়কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে এখানকার স্বাভাবিক জনজীবন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এখানে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরার পর থেকেই তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার তা নেমে আসে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে, আর বুধবার আরও কমে ৭ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছেছে।
আজ সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কনকনে ঠান্ডার কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ খুব একটা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বিভিন্ন মোড়ে ও চায়ের দোকানের পাশে শীত নিবারণের জন্য আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন শীতার্তরা। এদিকে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
শহরের রৌশনাবাগ এলাকার রাজমিস্ত্রি আক্তার হোসেন বলেন, রাত থেকেই প্রচণ্ড শীত আর ঠান্ডা বাতাস বইছে। সকালে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় হাত বরফের মতো হয়ে যাচ্ছে। তবুও পরিবারের কথা ভেবে কাজে বের হতে হচ্ছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় আরও বলেন, চলতি মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় এটিই এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে