Views Bangladesh Logo

সুনামগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর, আতঙ্কে হিন্দু সম্প্রদায়

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, দোকান ও বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও তারপর স্থানীয় কয়েকটি মন্দির, দোকান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ জানায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে ওই তরুণের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজার ও গড়কাটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ লোকজন কয়েকটি বাড়িঘর, তিনটি মন্দির এবং দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত তরুণের পরিবারের দাবি, তাকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর শত শত লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরের আসবাবপত্র, পানির মোটর, ট্যাংকসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুট করা হয়েছে। ঘটনার পর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তার কারণে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই দোকানপাট বন্ধ করে ঘরে অবস্থান নেন।

তাহিরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেশ তালুকদার জানান, হামলায় বাদাঘাট কালীমন্দির, গড়কাটি কালীমন্দির ও দুর্গামন্দিরসহ তিনটি মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্দিরগুলোর সামনে থাকা নাটমন্দিরও ভাঙচুর করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে তার বিচার আইনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। কিন্তু একজনের অভিযোগের দায় পুরো সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দিয়ে মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনার পর সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার সঙ্গে জড়িতদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ