৩ দিনে বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে তিস্তার পানি, ১২ জেলায় বন্যার আশঙ্কা
দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং দেশের ১২টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি নদী স্টেশনের সবকটিতেই পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সিলেট ও বরিশালের কিছু অংশসহ ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ওড়িশা এবং তৎসংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু অংশে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর এবং ময়মনসিংহ জেলার নদীগুলোর পানি কিছু কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ডেকে আনতে পারে। এদিকে রংপুর বিভাগে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যা নীলফামারী এবং লালমনিরহাটের নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি করবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি কমতে পারে এবং এরপর আবার বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার পর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিনে কমতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এই সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলো বিপৎসীমার নিচেই অবস্থান করবে বলে জানানো হয়েছে।
মতামত দিন