‘প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ তরুণীর হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন
মেহেরপুর শহরে গভীর রাতে এক তরুণীর ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে তার ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সায়ন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় তরুণীর মা-বাবাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ২টার দিকে শহরের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর।
আহত তরুণীর বয়স ১৭ বছর। সে ওই এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের মেয়ে এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী। অভিযুক্ত সায়নের বয়স ২৪ বছর। তিনি শহরের মল্লিকপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে।
তরুণীর বাবা সেলিম হোসেনের অভিযোগ, পথে বের হলে সায়ন প্রায়ই তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি মেয়ে তাকে জানালে তিনি সায়নের বাবার কাছে অভিযোগ করেন। এরপরও সায়ন তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করাতে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সেলিম হোসেন বলেন, রাত ২টার দিকে বাড়ির প্রাচীর টপকে সায়ন তার মেয়ের ঘরে ঢোকেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার মেয়ের ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে দেন। মেয়ের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে গেলে তাদেরও ডাব কাটার ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান তিনি।
তরুণীর মা রেবেকা খাতুন বলেন, মেয়ের চিৎকার শুনে ঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, দায়ের কোপে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। মেয়েটি তখন রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে কাতরাচ্ছিল।
প্রতিবেশী বরকত উল্লাহ তরু জানান, গভীর রাতে চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক যুবককে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে ঘরে গিয়ে তরুণীকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তার বিচ্ছিন্ন হাতের পাশে রক্তমাখা ধারালো দা পড়ে ছিল। তরুণীর বাবা-মাকেও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হাসপাতালে আহতদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত সায়নকে শুক্রবার সকালে মল্লিকপাড়া আমবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মতামত দিন