শিশু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণে ১১ বছরের শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল,তবে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড অনুমোদন করে। র্যাব-১৪ মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে বুধবার দুপুরে তাকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় মদন থানা পুলিশ তাকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আসামি মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাইক্ষার বাজার গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে “হযরত ফাতেমাতুজ জাহরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে শিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আসামি একটি শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ১৮ এপ্রিল ছুটি নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব ও পুলিশকে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিমান্ডে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামি আমানউল্লাহ সাগর একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তিনি চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল। তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।
পরে ২৩ এপ্রিল এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামি মাদ্রাসা শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার এড়াতে বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন অভিযুক্ত আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। তবে, তাকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে