দুই দশক পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা বললেন ‘খুবই ভালো লাগছে’
প্রায় দুই দশক পর ভারতের কলকাতায় ফিরেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দিল্লি থেকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শহরে ফিরে আবেগাপ্লুত লেখক বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে।’
বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বন্ধু, অনুরাগী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরে ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।
কলকাতায় যাওয়ার আগে শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর সেই বার্তা বাস্তবে রূপ নেয়। লালপাড় সাদা শাড়ি পরিহিত তসলিমাকে দেখতে বিমানবন্দরে জড়ো হন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী। তাঁদের হাতে ছিল লেখিকার ছবি-সংবলিত ব্যানার ও শুভেচ্ছা বার্তা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘সেকুলার মিশন’, ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’—এই তিন সংগঠনের আমন্ত্রণে কলকাতায় গেছেন তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদবিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের এক অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ছাড়ার পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশক আগের বিতর্কিত এক অধ্যায়। ২০০৭ সালে তার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাস প্রকাশকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে কলকাতা ছাড়তে বলা হয়। সে সময় তার বইটির ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার।
পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হলেও দীর্ঘ সময় তসলিমার কলকাতায় ফেরার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এবার প্রায় ২০ বছর পর তিনি আবারও কলকাতায় ফিরলেন, যা তার অনুরাগীদের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মতামত দিন