Views Bangladesh Logo

চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আজ, সই হতে পারে ১৫ চুক্তি

চীন সফরের অংশ হিসেবে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করতে বৃহস্পতিবারের (২৫ জুন) এই বৈঠকে অন্তত ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য চুক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ এবং গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্প সংক্রান্ত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে (জিডিআই) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও দুই নেতার আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

সফরসূচি অনুযায়ী, আজ বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাবেন।

এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতা সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছেন চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি (সিআইডিসিএ), চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিপিসিপি) প্রধান ছাড়াও দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট প্রতিনিধিরা। দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সফররত তারেক রহমানের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করবেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।

একই দিনে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকায় রওনা দেওয়ার আগে মিউজিয়াম অব দ্য কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না পরিদর্শন করবেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, এই সফর চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং দুই দেশের মধ্যকার 'কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ' বা ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক চীন সফর। গত ২২ জুন মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সফর শেষ করে তিনি চীনের দালিয়ান শহরে পৌঁছান। সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘সামার ডাভোস ফোরাম’-এ অংশ নেওয়ার পর উচ্চগতির বুলেট ট্রেনে করে বেইজিংয়ে পৌছান প্রধানমন্ত্রী।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ