নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রাসহ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। হোটেলের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন।
এর আগে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালের বাইরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা সড়কের এক পাশে দাঁড়িয়ে ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি। অন্যদিকে সড়কের অপর পাশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন।
বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোরে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। ইস্তাম্বুলে আড়াই ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যায় তিনি কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এর আগে জুন মাসে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন।
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য দেওয়া প্রাতরাশ সভায় অংশ নেবেন তিনি। পরে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন। একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, আগের সরকারপ্রধানদের মতো তারেক রহমানও বাংলায় ভাষণ দেবেন।
ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথাও রয়েছে তার।
জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
মতামত দিন