শুল্ক কমানো হয়েছে, এনইআইআর বন্ধ হবে না: ফয়েজ তৈয়্যব
মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়–বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা হবে না।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের শুল্কহার কমিয়েছে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি দিয়ে আনা হ্যান্ডসেট বৈধ করার সুযোগও দেওয়া হয়েছে। এরপরও দোকান বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ‘অপরাধের লাইসেন্স’ দাবি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিটিআরসি ভবন ঘুরে দেখেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী ভাঙচুরের ফলে সংস্থাটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।
এদিকে, একাধিক দাবিতে রোববার কারওয়ান বাজার মোড়ে আবারও জড়ো হন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
পুলিশ জানায়, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের পর থেকে থেমে থেমে ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে, এতে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনা ও র্যাব সদস্যদেরও নামানো হয়। পুলিশ জানায়, সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সকালে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় জলকামান, রায়টকার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে আবার সড়কে বসে পড়লে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং আন্দোলনকারীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানিয়েছে, এনইআইআর কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারদের মুক্তিসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সংগঠনটি পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দিয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর কার্যক্রম চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে