তত্ত্বাবধায়ক সরকার আলোচনা মুলতবি, সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কমিশন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই আপাতত আলোচনা মুলতবি করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। দ্বিতীয় দফার বৈঠকে এই ইস্যু ছিল কেন্দ্রবিন্দুতে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন মতের কারণে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বৈঠকের মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে রাজনৈতিক দলগুলো জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো নির্ভর করছে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ফলে আগে উচ্চকক্ষ সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি প্রয়োজন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি জানান, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রধান হিসেবে বিচার বিভাগকে যুক্ত করার অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক ছিল না। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়নি। তাই রাজনৈতিক দলগুলো সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধান চায়।
সাকি আরও বলেন, উচ্চ ও নিম্নকক্ষের যৌথ সিদ্ধান্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, যারা প্রধান উপদেষ্টাকে নির্বাচনের আগে নির্বাচন করবে। এ কমিটি গঠন হবে সর্বসম্মতভাবে বা র্যাংকিংভিত্তিক ভোটের মাধ্যমে।
তবে উচ্চকক্ষ নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক কাঠামোও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন তদারকি সরকার’ নাম ব্যবহার করা উচিত। এই সরকারের একমাত্র কাজ হবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বা অন্য কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়।
এ বৈঠকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়। অধিকাংশ দল প্রস্তাব দিয়েছে, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ দুই বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিতে হবে।
এবি পার্টির মহাসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে বিচারপতি নিয়োগে দলীয় প্রভাব ছিল। ফলে যোগ্যতার বদলে দলীয় আনুগত্য বিবেচনায় অনেকে নিয়োগ পেয়েছেন, যা বিচার বিভাগের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ গোটা বিচারব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাজনৈতিক নেতারা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে