গীতি, নৃত্য ও ফ্যাশন শোয়ে উঠে এল ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্রনাথের নারী চরিত্র
রাজধানীর এক অভিজাত হোটেলের বলরুম তখন যেন এক টুকরো শান্তিনিকেতন। মঞ্চে কখনও দৃপ্ত পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন 'শেষের কবিতা'র লাবণ্য, কখনও বা বিষণ্ণ চোখে দাঁড়িয়ে আছেন 'নষ্টনীড়'-এর চারুলতা। একদিকে যখন ভেসে আসছে রবীন্দ্র সংগীতের সুর, অন্যদিকে তখন ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহলের আভিজাত্য ফুটে উঠছে সমকালীন ফ্যাশন ও শৈলীতে।
কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গীতি, নৃত্য ও ফ্যাশন শোয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ঠাকুরবাড়ি ও রবীন্দ্র সাহিত্যের শক্তিশালী নারী চরিত্রদের।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্র সাহিত্যের নারী চরিত্রগুলোর নান্দনিক উপস্থাপনা, যেখানে ফ্যাশন ও অভিনয়ের নিপুণ সমন্বয়ে মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠেন লাবণ্য রূপে রিপা, বিমলা চরিত্রে ইলা এবং মৃণালিনী হিসেবে সাদিয়া। একইসাথে চারুলতার চিরায়ত রূপে সানজিদা, সুচরিতা চরিত্রে রিফাত, নন্দিনী হিসেবে বাবলি এবং গিরিবালা চরিত্রে রুনি তাদের অনবদ্য উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের সাহিত্যের সেই সোনালী দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
এছাড়া ঠাকুরবাড়ির ঐতিহাসিক নারী ব্যক্তিত্ব— কাদম্বরী দেবী, জ্ঞানদানন্দিনী, স্বর্ণকুমারী, সরলা, ইন্দিরা দেবী এবং কবির উত্তরসূরি মাধুরীলতা, রেণুকা ও মীরা দেবীর ব্যক্তিত্ব ও পোশাক-শৈলীও অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।
ফ্যাশন শো-এর পাশাপাশি রবীন্দ্রগীতি ও নৃত্যনাট্যের পরিবেশনা দর্শকদের বিমোহিত করে। নৃত্যনাট্যে শ্যামা চরিত্রে সাবা, চিত্রাঙ্গদা চরিত্রে অন্তরা এবং চণ্ডালিকা চরিত্রে সুস্মিতা অনবদ্য নৃত্যশৈলী প্রদর্শন করেন। ভানুসিংহের পদাবলিতে একক নৃত্য পরিবেশন করেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী সামিনা হুসেন প্রেমা।
সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন স্বপ্নিল সজীব, ফারহিন খান জয়ীতা, মহুয়া মঞ্জুরী এবং সেমন্তী মঞ্জুরী। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির কাব্যপাঠ ও ধারাবিবরণীতে ছিলেন ত্রপা মজুমদার ও আশিকুল ইসলাম।
ফ্যাশনবোদ্ধারা মনে করছেন, এই আয়োজনটি দেশের ফ্যাশন শো জগতে এক নতুন সংযোজন। শুধুমাত্র পোশাক প্রদর্শন নয়, বরং ঠাকুরবাড়ির তৎকালীন সাজসজ্জা, স্টাইল এবং পোশাকের মাধ্যমে আভিজাত্য ও আধুনিকতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল বাঙালিয়ানার জয়গান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতীয় হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মা বিশ্বশান্তি ও মানবতার তরে রবীন্দ্রনাথের অমর অবদানের কথা স্মরণ করেন। এফডিসিবি সভাপতি মাহীন খান তার বক্তব্যে এই আয়োজনের প্রেক্ষাপট ও রবীন্দ্র সাহিত্যের নারীদের প্রভাব তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শৈবাল সাহা।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে গান, কবিতা আর ফ্যাশনের মোহময় আবেশে উপস্থিত দর্শকরা রবীন্দ্রনাথকে নতুনভাবে আবিস্কার করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে