‘তাদামন গণহত্যায়’ জড়িত অভিযোগে সিরিয়ায় তিনজন গ্রেপ্তার

২০১৩ সালে দামেস্কের শহরতলী তাদামনে সরকারি বাহিনীর হাতে শত শত বেসামরিক নাগরিককে হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
দেশটির ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধ চলাকালে ইয়ারমুক ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের কাছের একটি রাস্তায় ওই বছরের ১৬ এপ্রিল ‘গণহত্যা’ চালানো হয়। সিরিয়ার কুখ্যাত সামরিক গোয়েন্দা শাখা ও বিরোধী যোদ্ধাদের যুদ্ধ তাদামন জেলাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে। গৃহযুদ্ধ শেষের দুই বছর পর এখন ফাঁকা ভবন দিয়ে সারিবদ্ধ এলাকাটি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, কয়েক ডজন পুলিশ এবং নিরাপত্তা ট্রাক নিয়ে গ্রেপ্তার অভিযানটি চালায় নিরাপত্তা বাহিনী।
২০২২ সালে ফাঁস হওয়া ‘গণহত্যার’ প্রায় সাত মিনিটের ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, সরকারি বাহিনীটির ২২৭ জন সদস্য প্রায় ৪০ জনকে হাত পেছনে ও চোখ বেঁধে তাদামনের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। এরপর মুখোশপরা বন্দুকধারীরা সব বন্দিকে পুরোনো টায়ার ভর্তি পরিখায় ঠেলে বা লাথি মেরে ফেলে দেয় এবং পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তাদের গুলি করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন সামরিক নিরাপত্তা বাহিনীটির প্রাক্তন কর্মী ও জাহিরা পাড়ার বাসিন্দা মনজের আল-জাজাইরি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, কীভাবে আটক ব্যক্তিদের চেকপয়েন্ট থেকে এনে ভবনের নিচে হত্যার পর বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা দেয়া হত। তার বক্তব্য স্বেচ্ছায় নাকি জোর করে নেয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
দামেস্কের নিরাপত্তা প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল রহমান আল-দাব্বাঘ গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রতিটি দলে প্রায় ২৫ জনকে হত্যা করা হয়। এক একটি হত্যার মাঝে প্রায় এক সপ্তাহের ব্যবধান ছিল। তিনি অনুমান করেন, ‘তাদামন গণহত্যার’ শিকার প্রায় ৫০০ জন।
মতামত দিন