Views Bangladesh Logo

সিলেটে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকায় অনশনে সিপিবির প্রার্থী

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় প্রশাসনের ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার অভিযোগে প্রতিবাদী অনশনে বসেছেন সিলেট-১ (নগর-সদর) আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন সুমন।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মুক্তমঞ্চে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে অনশন শুরু করেন তিনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদী অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আনোয়ার হোসেন সুমন।

সিপিবির ‘কাস্তে’ প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন অভিযোগ করে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দেখিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণার বিলবোর্ড অপসারণ করা হলেও অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একই বিধি প্রয়োগ করা হচ্ছে না। তিনি জানান, সিলেট মহানগরের অন্তত দুজন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রতিটি ওয়ার্ডে দুই থেকে তিনশ করে বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন।

এ ছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছে ফেস্টুন লাগানো, নির্ধারিত সাইজ অমান্য করা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পোস্টার লাগানোর মতো একাধিক অনিয়ম চললেও প্রশাসন কিংবা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করে ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে’ আজ থেকে অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে প্রাথমিকভাবে তার একটি বিলবোর্ড অপসারণের জন্য ‘দুর্বৃত্তদের’ দায়ী করেছিলেন সিপিবির এই প্রার্থী। তবে পরে তিনি জানান, রঙিন বিলবোর্ড লাগানোর কারণে পুলিশ তা অপসারণ করেছে।

এ প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসেন সুমন বলেন, আইনসম্মতভাবে তিনি নির্বাচনী এলাকায় ২০টি বিলবোর্ড স্থাপন করেছিলেন। নির্বাচন আচরণবিধি পর্যালোচনা করে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, বিধিমালার ১৪ নম্বর দফায় বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে রঙিন হওয়া নিষিদ্ধ—এমন কোনো নির্দেশনা নেই। একইভাবে বিধিমালার ৭ নম্বর দফার বিভিন্ন উপদফায় ব্যানার ও ফেস্টুনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তিনি আরও জানান, এসব বিষয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয় এবং গত ২২ জানুয়ারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই বিলবোর্ডগুলো স্থাপন করা হয়। এরপরও কোনো ধরনের নোটিশ বা পূর্ববার্তা ছাড়াই পুলিশ পাঠিয়ে তার বিলবোর্ডগুলো খুলে ফেলা হয়। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন, দুর্বৃত্তরা এ কাজ করেছে। পরে নিশ্চিত হন, প্রশাসনের পক্ষ থেকেই বিলবোর্ডগুলো অপসারণ করা হয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ