টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার আশঙ্কা
নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
এফএফডব্লিউসির বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারা নদীর পানির উচ্চতা ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা, কুশিয়ারা ও মনু নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীঘেঁষা সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভুগাই-কংস নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সাতটি জেলা বন্যাকবলিত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও আটটি জেলা বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট ও সুনামগঞ্জকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় রাখা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্লাবিত এলাকার বিস্তৃতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনী-কুমিল্লা অঞ্চলে সংঘটিত বন্যার তুলনায় বেশি।
মতামত দিন