রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বর্জন সিলেট মহানগর বিএনপির, অনুষ্ঠানস্থলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নগর ভবন প্রাঙ্গণের সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
নগর ভবনে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন রাষ্ট্রপতি। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বস্ত্র ও পাট, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ। রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও অনুষ্ঠানে রয়েছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিসিকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতল পাটি, চা গাছের রেপ্লিকা ও উন্নতমানের চা পাতা উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হবে মণিপুরী শাড়ি।
সংবর্ধনা বর্জন মহানগর বিএনপির
এদিকে নগর ভবনে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সিলেট মহানগর বিএনপি। দলটির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, সংবর্ধনা আয়োজনের বিষয়ে মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। সিসিক প্রশাসক একক সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছেন এবং নেতাদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি বলে দাবি তাদের।
মহানগর বিএনপির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারতের সময় তাদের জন্য এমন একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যেটির মাজার এলাকার ভেতরে প্রবেশের অনুমতিপত্র ছিল না। ফলে নিরাপত্তাবাহিনী গাড়িটি মূল সড়কেই আটকে দেয় এবং দলের সিনিয়র নেতাদের হেঁটে মাজারে যেতে হয়। এসব কারণেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তারা।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘নানা কারণে’ মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। তবে কারণগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে চাননি তিনি। তার ভাষ্য, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়া রাষ্ট্রপতির সফরের অন্য সব কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপি অংশ নিয়েছে।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনার আয়োজন এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানটি বর্জন করেছে। এ বিষয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সংবর্ধনাস্থলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনাস্থলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে নগর ভবনের সংবর্ধনাস্থলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিদ্যুৎ ছিল না। ওই সময় অবশ্য রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছাননি।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, এটি লোডশেডিং ছিল না। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে লোডশেডিং করার প্রশ্নই আসে না। অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি বা গোলযোগের কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিলেটে লোডশেডিং রাখা হয়নি, তবে কোথাও কোথাও লো-ভোল্টেজের সমস্যা থাকতে পারে।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এটি প্রথম সিলেট সফর। সকালে ঢাকার উদ্দেশে একটি ফ্লাইটে রওনা হয়ে বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। পরে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি।
মতামত দিন