Views Bangladesh Logo

সুরঞ্জিত হত্যাচেষ্টা মামলার রায়: মন্ত্রী-হুইপসহ ৯ জন খালাস, জেএমবির সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

সাবেক মন্ত্রী ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। দীর্ঘ ২২ বছর পর দেওয়া এ রায়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গৌছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান, মামলার ১২ আসামির মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে নিমুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ মামলার অপর দুই আসামি জেএমবি নেতা মুফতি হান্নান ও বিপুলের অন্য মামলায় আগেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলায় মোট ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা তাজ উদ্দিন, জেএমবি নেতা মুহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল, মাসুম বিল্লাহ, খাজা মো. আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট এবং নাজিউর রহমান নাজুসহ অন্যরা।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য গ্রহণ করেন আদালত। সে সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হুইপ জি কে গৌছ এবং লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং খালাস প্রার্থনা করেন।

রায় ঘোষণার দিনও তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় একজন যুবলীগ নেতা নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন।

ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক দুই মামলায় আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গৌছ, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ