Views Bangladesh Logo

সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক অন্তত ৭০ শতাংশ করতে হবে: কর্মশালায় বক্তারা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

বাংলাদেশে যেসব সিগারেট বিক্রি হয় তার মধ্যে শতকরা ৭০ থেকে ৭৫ ভাগই সস্তা ও নিম্ন স্তরের। তামাক-বিরোধী নাগরিক সংগঠনগুলো তাই বহু বছর ধরে নিম্ন স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে অন্য স্তরের (অর্থাৎ মধ্যম, উচ্চ, ও প্রিমিয়াম স্তরের) সিগারেটের সমান করার দাবি জানিয়ে আসছিলো। চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে সকল স্তরের সিগারেটের ওপর সমান ৬৭ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। তবে আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই শুল্ক হার আরও বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করতে হবে বলে মনে করেন বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. এস. এম জুলফিকার আলী। তা না হলে বাংলাদেশে সিগারেট ব্যবহারের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভবনে ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সিগারেটে কার্যকর করারোপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

কর্মশালার প্রেক্ষাপট উপস্থাপনায় উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী বলেন, এ বছরের জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম ৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তামাক নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে অর্থবছরের মাঝ পর্যায়ে এসে এই উদ্যোগ না নিয়ে শুরুতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া গেলে আরও বেশি সুফল পাওয়া যেতো।

এনবিআর-এর পক্ষ থেকে উপস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সচিব (ভ্যাট পলিসি) মো. মশিউর রহমান সিগারেটে করারোপের মাধ্যমে বাংলাদেশে সিগারেট ব্যবহার হ্রাসে এনবিআর-এর কৌশল, সাফল্য ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সিগারেটে দাম নির্ধারণের সময় রাজস্ব আদায় নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতে চায় এনবিআর।
এ প্রসঙ্গে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত এনবিআর-এর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি এসে সিগারেটের দাম ও কর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়ানোর ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিম্ন স্তরের সিগারেট বিক্রির পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিগারেটের কর কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বিষয়ে সকল অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

কর্মশালায় তামাক-বিরোধী নাগরিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া সিগারেটের স্তর সংখ্যা চারটি থেকে কমিয়ে তিনটি করার পাশাপাশি এক শলাকা সিগারেটের দাম অন্তত ১০ টাকা করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাত (প্রথম সচিব, ট্যাক্স পলিসি, এনবিআর), এবং বিসিআইসি-এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়র শিক্ষার্থী, তামাক-বিরোধী নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা। সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের হেড অফ প্রোগ্রামস শাহীন উল আলম।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ