Views Bangladesh Logo

পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন

মাছের প্রজনন ও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার পর্যটক ও বননির্ভর মানুষের জন্য সুন্দরবন খুলে দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম ও উপজেলার জেলে এবং অন্যান্য বননির্ভর মানুষ বৈধ পাস ও পারমিট নিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে বনে ফেরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

তিন মাস কর্মহীন থাকার পর বননির্ভর হাজারো পরিবারের মধ্যে সুন্দরবন খুলে দেওয়ার খবরে স্বস্তি ফিরেছে। এসব পরিবারের অনেকেই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

তবে নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বনদস্যুদের চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং অপহরণের আশঙ্কা নিয়ে তারা চিন্তিত।

বননির্ভর মানুষেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের ওপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা সরকারি হিসাবে নিবন্ধিত মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।

সুন্দরবনসংলগ্ন নদীর ঘাট ও জেলেপল্লিগুলোতে ইতোমধ্যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

জেলেরা ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, পুরোনো নৌকায় আলকাতরা লাগাচ্ছেন এবং ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন। কাঁকড়া ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও প্রস্তুত করছেন তারা।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক পরিবার কর্মহীন ছিল। এখন তাদের ঋণের কিস্তি ও ধারদেনা পরিশোধের চাপও তৈরি হয়েছে।

বর্ষাকালে মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, যাতে মাছ নির্বিঘ্নে প্রজনন করতে পারে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকে।

এবারের তিন মাসের বন্ধের সময়ে সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলো জীবিকা চালাতে বিকল্প আয়ের উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবনে পর্যটকবাহী জাহাজ ও লঞ্চসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল শুরুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হাসানুর রহমান বলেন, তিন মাসের বন্ধ সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, “তিন মাস বনটিতে মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকায় গাছপালা ও উদ্ভিদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে হরিণসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী ও পাখির সংখ্যাও বেড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বন্ধের সময়ে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদী ও খালগুলোতে মাছের উৎপাদনও বেড়েছে।

সুন্দরবন পুনরায় খুলে দেওয়ার ফলে মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, পর্যটন এবং বনকেন্দ্রিক অন্যান্য কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ পাস ও পারমিট ব্যবস্থার মাধ্যমে বনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৮১ হাজার ২৯১ টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৪ টাকা ৯৭ পয়সা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ