টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: শিল্পমন্ত্রী
টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি যাচাই এবং এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে শিল্পমন্ত্রী এ কথা জানান।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক টক্সিন থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে ওই গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস কিংবা তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে যাতে জনমনে বিভ্রান্তি বা অযথা আতঙ্ক তৈরি না হয়, সে জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও ভোক্তা অধিকার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে একাধিক সভা করেছে বলে জানান তিনি।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, কমিটির তদারকিতে বাজার ও উৎপাদনকারী কারখানা থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক তুলনামূলকভাবে নতুন পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ। বিএসটিআইয়ের বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ডে এটি সরাসরি নিষিদ্ধ বা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষাগার সুবিধাও বিএসটিআইয়ের ছিল না।
বর্তমানে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জাতীয় মান নির্ধারণের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
বৈজ্ঞানিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিকর প্লাস্টিক মাইক্রোবিডের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পণ্যের গায়ে ব্যবহৃত উপাদান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি জাতীয় মানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও পরীক্ষাপদ্ধতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন শিল্পমন্ত্রী। বিসিএসআইআর থেকে পাওয়া পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় মান হালনাগাদ করা হবে।
খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরাপদ মোড়কীকরণ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মোড়কীকরণে মানসম্পন্ন ভার্জিন উপাদান ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত খাদ্য কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন ও তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সরকার কোনো আপস করবে না। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় কোনো পণ্যে অননুমোদিত উপাদান বা বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, বিএসটিআইয়ের নিয়মিত নজরদারির আওতায় নির্ধারিত বাংলাদেশ মান অনুসরণ না করায় সম্প্রতি ১০টি খাদ্যপণ্য ও আটটি প্রসাধনী বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কয়েকটি মসলা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঘি ও বাটার অয়েল রয়েছে।
সংসদ সদস্যের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, টুথপেস্টসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো নির্ধারিত জাতীয় মান বর্তমানে নেই। তাই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফল ও পণ্যের মান অনলাইনে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও ভোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মতামত দিন