হঠাৎ পরিদর্শনে এসে কমলাপুর স্টেডিয়ামের প্রশাসককে বরখাস্ত করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়ে স্টেডিয়ামের প্রশাসককে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে প্রশাসক শফি কামাল স্বপ্নিলের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে স্টেডিয়ামটিতে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগের খেলা চলছে। তবে খেলাধুলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই মাঠ ও এর আশপাশের পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। মাঠ ও স্টেডিয়াম এলাকায় প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৈদ্যুতিক কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
পরিদর্শনের সময় এসব অভিযোগের সত্যতাও সরেজমিনে দেখতে পান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। পরে দায়িত্বে অবহেলার কারণে স্টেডিয়ামের প্রশাসক শফি কামাল স্বপ্নিলকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে স্টেডিয়ামের উত্তর পাশের বৈদ্যুতিক কাজ, বর্জ্য অপসারণ এবং সার্বিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রশাসককে নির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় প্রত্যাশিত উন্নতি আসেনি।
রোববারের আকস্মিক পরিদর্শনে বিষয়গুলো নিজ চোখে দেখার পরই প্রশাসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় স্টেডিয়ামের চলমান কার্যক্রম ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যবস্থাপনাও খতিয়ে দেখা হয়।
এদিকে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফেরাতে আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। স্টেডিয়ামের চারপাশে থাকা সব দোকানের বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। দোকানগুলো থেকে ভাড়া বাবদ যে আয় হয়, সেটির প্রয়োজন নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।
দোকানের বরাদ্দ বাতিলের ঘোষণা দিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘আমার এখান থেকে দোকান ভাড়ার আয় দরকার নাই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দোকানগুলোর বরাদ্দ বাতিলের বিষয়ে খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্টেডিয়ামের চারপাশের জায়গা থেকে দোকান সরিয়ে সেখানে ক্রীড়া কার্যক্রমের জন্য আরও উপযোগী পরিবেশ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, দোকানগুলোর জায়গা পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের অফিস হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ক্লাবগুলোকে তাদের নিয়মিত প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থায়ী জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মতামত দিন