শেখ পরিবার সম্পর্কিত জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় উদযাপন বন্ধ ঘোষণা
বর্তমান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে , শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীসহ অতীতে প্রচলিত কিছু জাতীয় দিবস আর রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করা হবে না। গত ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতি অনুসরণ করেই এটি গ্রহণ করেছে। প্রজ্ঞাপনে মোট ৮৯টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রবর্তিত শেখ পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট দিবসগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উল্লেখ্য, আগে ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হতো, যা এখন থেকে আর কার্যকর থাকবে না।
সরকার নতুন সিদ্ধান্তে ৫ আগস্টকে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করার ঘোষণা দিয়েছে। ১৬ জুলাই দিবসটি রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে প্রবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া লালন শাহর মৃত্যুবার্ষিকী প্রথমবারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে ‘এ’ ক্যাটাগরির দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন নির্দেশনায় দেশের সকল দিবসকে গুরুত্ব অনুসারে এ, বি ও সি—এই তিনটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এতে ১৭টি দিবস ‘এ’ ক্যাটাগরিতে, ৩৭টি দিবস ‘বি’ ক্যাটাগরিতে এবং ৩৫টি দিবস ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। বীমা দিবসের মর্যাদাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির দিবসের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যাবে এবং মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে। ‘সি’ ক্যাটাগরির দিবসগুলো নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক সীমিত পরিসরে পালন করা হবে এবং এর জন্য কোনো বিশেষ সরকারি বরাদ্দ থাকবে না।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয় ও অপ্রয়োজনীয় উদযাপন এড়াতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে কৃচ্ছ্রসাধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অপ্রাসঙ্গিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক দিবস পালন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিরত থাকতে হবে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং গণমাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে দিবস উদযাপন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী দিবস বা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের মতো বড় আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। মূলত সময়োপযোগীতা বিচার করে রাষ্ট্রীয় উদযাপন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে