ঘানার রক্ষণে থমকে গেল ইংল্যান্ড, ম্যাচ শেষ গোলশূন্য সমতায়
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এল’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বোস্টনে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও ঘানা। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই লড়াই শেষে দুই দলই কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচটি শেষ হয় গোলশূন্য ড্রতে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে চার গোলের বড় জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল ইংল্যান্ড। তবে এই ম্যাচে তারা শুরু থেকেই ঘানার সুসংগঠিত ও আক্রমণভাগে শক্তিশালী রক্ষণব্যবস্থার সামনে পড়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঝমাঠে ঘন প্রতিরোধ গড়ে তোলে ঘানা। কেন্দ্রীয় জায়গাগুলো ভরাট করে ইংল্যান্ডের পাসিং রিদম ভেঙে দেওয়াই ছিল দলের মূল কৌশল। ফলে ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামকে প্রায় পুরো ম্যাচেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দখলে আধিপত্য থাকলেও ইংল্যান্ডের আক্রমণ বারবার ঘানার ডিফেন্সে আটকে যায়। ঘানা ধৈর্য ধরে রক্ষণ সামলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। ৪১ মিনিটে ইংল্যান্ডের ডেকলান রাইস ট্যাকটিক্যাল ফাউলের কারণে হলুদ কার্ড দেখেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক লড়াই ও মাঝমাঠের দ্বন্দ্বে দুই দলই বেশ কিছু ফাউল করতে বাধ্য হয়। ৫৯ মিনিটে ঘানার ফরোয়ার্ড ইনাকি উইলিয়ামসকেও হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল ম্যাচে গতি ও আক্রমণ বাড়াতে একাধিক পরিবর্তন আনেন। বুকায়ো সাকা, মার্কাস র্যাশফোর্ড ও মরগান রজার্সকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণভাগকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে প্রতিটি আক্রমণই ঘানার সংগঠিত রক্ষণ ও গোলরক্ষক বেনজামিন আসারের দুর্দান্ত সেভে ব্যর্থ হয়। শেষ মুহূর্তেও ইংল্যান্ড চাপ বাড়ালেও ঘানার রক্ষণভাগ অটল থাকে। পুরো ম্যাচজুড়ে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের ঘাটতি ও ঘানার শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্সের কারণে কোনো দলই জালের দেখা পায়নি।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘এল’-এ দুই দলই অপরাজিত থেকে ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখে। ফলে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে দুই দলের জন্যই লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠল।
মতামত দিন