জনবল সংকটে রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোর আইসিইউ অচল!
রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে শয্যা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাবে সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ফলে মুমূর্ষু রোগীরা সময়মতো আইসিইউ সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, যা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে হাম ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
রামেক হাসপাতাল ছাড়া বিভাগে সরকার ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫৪টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও জনবল সংকটে বেশিরভাগই কার্যকর নয়। অনেক আইসিইউ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিতভাবে চালু রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৮টি বেড, সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ৬টি এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ বেড কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ২০২২ সালে ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত করা হলেও চিকিৎসক সংকটে তা চালু করা যায়নি।
এদিকে রামেক হাসপাতালের ৪০ শয্যার আইসিইউ বিভাগই পুরো বিভাগের প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে। তবে এটি এখনো সরকারি অনুমোদনবিহীন এবং পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, আইসিইউ চালানোর জন্য অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং প্রশিক্ষিত নার্স অপরিহার্য। কিন্তু এসব পদে ব্যাপক ঘাটতির কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, আইসিইউ না থাকায় অনেক রোগীকে দ্রুত রাজশাহীতে পাঠাতে হয়, যা সময় ও জীবন—উভয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে