সেন্টমার্টিন ভাগ হবে চার এলাকায়, থাকবে ‘রেস্ট্রিকটেড জোন’
সেন্টমার্টিনকে চারটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব এসেছে খসড়া মহাপরিকল্পনায়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) প্রণীত এ খসড়া মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়।
খসড়া মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘জেনারেল ইউজ জোন’-এ পর্যটনসহ সাধারণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলবে। হোটেল ও রিসোর্টগুলোকে এ জোনের আওতায় আনা হবে।
‘ম্যানেজড রিসোর্স জোন’ হবে কচ্ছপের প্রজনন এলাকা। এখানে পর্যটকরা দিনে ঘুরে দেখতে পারবেন। তবে রাতে থাকার অনুমতি থাকবে না। স্থানীয় বাসিন্দারাও এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।
তৃতীয় জোন হলো ‘সাসটেইনেবল ইউজ জোন’। এ এলাকায় রয়েছে বুশল্যান্ড, লেগুন ও ম্যানগ্রোভ বন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী কতটুকু ও কীভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন, তা সরকার নির্ধারণ করবে। পর্যটকরা দিনে প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু রাতযাপনের সুযোগ থাকবে না।
চতুর্থ জোনটি হলো ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’। জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এ এলাকায় কোনো ধরনের প্রবেশের অনুমোনদ দেওয়া হবে না।
চারটি প্রধান লক্ষ্যকে ঘিরে মাস্টারপ্ল্যান সাজানো হয়েছে। সেগুলো হলো– বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, সামুদ্রিক সম্পদ ও জীবিকা সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো।
এ ছাড়া সেন্টমার্টিনে জেনারেটর নয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও কাজ করবে সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সরকার এ মুহূর্তে সেন্টমার্টিনের হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেন্টমার্টিন ও পর্যটন সমার্থক হতে পারে না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ফলে দ্বীপের বাস্তুতন্ত্র কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে।’
এই দ্বীপের প্রথম অগ্রাধিকার ‘সংরক্ষণ’ হতে হবে বলেও উল্লেখ করেন রিজওয়ানা। তিনি বলেন, ‘দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখবে।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে