এসএসসি উত্তীর্ণদের জন্য ৯ ধরনের বৃত্তি, কোথায় কী সুযোগ
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের অনেকেই এখন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে বিভিন্ন বৃত্তি ও উপবৃত্তির সুযোগ। এর মধ্যে কয়েকটির আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, আবার কিছু বৃত্তির কার্যক্রম শুরু হবে ফল প্রকাশের কয়েক মাস পর। এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৃত্তির তথ্য তুলে ধরা হলো।
বোর্ড বৃত্তি: প্রতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এসব বৃত্তির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সাধারণত ফল প্রকাশের কয়েক মাস পর বৃত্তির তালিকা ও আবেদনসংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়। তাই শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নজর রাখা প্রয়োজন।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শিক্ষাবৃত্তি: মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তির আবেদন চলছে। ২০২৬ সালের বৃত্তির জন্য ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২২ সেপ্টেম্বর। শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকার শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ-৫ এবং গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ থাকতে হবে। দুই বছর এইচএসসি পর্যায়ে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা, বছরে পাঠ্য উপকরণের জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পোশাক বাবদ ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। মোট বৃত্তির ৯০ শতাংশ গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন: মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এ বৃত্তির আবেদন চলছে। ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পাস করে বর্তমানে এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে পড়ছেন এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। বিভাগীয় শহর বা সিটি করপোরেশন এলাকার বিজ্ঞান বিভাগের জন্য জিপিএ-৫ এবং অন্যান্য বিভাগের জন্য ৪ দশমিক ৮০ প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ কমপক্ষে ৪ দশমিক ৮০ এবং অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৪ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার বেশি হলে আবেদন করা যাবে না। আবেদনের শেষ সময় ২৭ আগস্ট।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট: একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা হতে হয়। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে যোগ্য শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সুযোগ নিতে পারবেন।
সোনালী ব্যাংক ও সমন্বিত উপবৃত্তি: সোনালী ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র, মেধাবী ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়ে থাকে। সাধারণত এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় আসেন। অন্যদিকে সরকারের সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচিতে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে অন্য সরকারি উপবৃত্তি বা শিক্ষা ভাতা পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার জন্য বিবেচিত হন না। একইভাবে বোর্ডের মেধা বা সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরাও এ উপবৃত্তির আওতায় পড়বেন না।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বৃত্তি: বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সন্তানদের জন্যও রয়েছে শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রবাসী কর্মীদের সন্তানরা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এ সহায়তা পেতে পারেন। এ বৃত্তির আবেদন ও যোগ্যতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হবে।
‘নাম্বার ওয়ান বাবার কৃতী সন্তান’ ও মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন: মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ‘নাম্বার ওয়ান’ ব্র্যান্ডের উদ্যোগে প্রান্তিক পর্যায়ের চা-দোকানি বাবা-মায়ের জিপিএ-৫ পাওয়া সন্তানদের সম্মাননা ও বৃত্তি দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বিনামূল্যে আবেদন করা যাবে। নির্বাচিতরা এককালীন শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি এইচএসসির বিভিন্ন বিষয়ের অনলাইন কোর্স, সনদ, ক্রেস্ট, মেডেল ও উপহার পাবেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তির সহায়তা এবং মাসিক বৃত্তি দিয়ে থাকে। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন।
বৃত্তির জন্য আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্ত আলাদা। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। অনলাইনে আবেদন করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফরম পূরণ করতে হবে। ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ আবেদন কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, শিক্ষা বোর্ড ও বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মতামত দিন