Views Bangladesh Logo

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। পায়ে টান লাগায় ৬৭ রান করে মাঠ ছেড়ে যাওয়া জস বাটলার ৪৮তম ওভারে আবার ক্রিজে ফিরেছিলেন। দিলশান মাদুশাঙ্কার প্রথম বলটি ডিপ মিড-উইকেটের দিকে উড়িয়ে মারেন তিনি। বলটি সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে মনে হলেও বড় বাউন্ডারির কারণে ক্যাচে পরিণত হয়। ক্যাচটি নেন কামিন্দু মেন্ডিস। সেখানেই অনেকটা শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের জয়ের আশা।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৬ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা।

হেডিংলিতে বৃহস্পতিবার কুসাল মেন্ডিসের সেঞ্চুরি ও কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে ৫০ ওভারে ৩২১ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ১৪৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ও চারটি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের পরও শেষ পর্যন্ত ৩০৫ রানে থামে ইংল্যান্ড।

১৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১০০ বলে ১২১ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস।

সফরকারীদের হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দুনিথ ওয়েলালাগে। ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে টম ব্যান্টন, বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুকের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট নেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

ইংল্যান্ডের হয়ে ব্যান্টন ৭৩, ডাকেট ৬৭, বাটলার ৬৯ এবং উইল জ্যাকস ৫২ রান করেন।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় উড়ন্ত শুরু পায় ইংল্যান্ড। ব্যান্টন ও ডাকেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ার প্লেতে আসে ৮২ রান। ফিফটি ছোঁয়ার পর লেগ স্পিনার সাচিন্দু কলম্বাগের এক ওভারে দুটি ছক্কাও মারেন ব্যান্টন।

তাদের জুটির সময় ইংল্যান্ডকে জয়ের পথেই মনে হচ্ছিল। তবে ওয়েলালাগে বোলিংয়ে আসার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান দেওয়ার পর টানা তিন ওভারে ডাকেট, ব্যান্টন ও হ্যারি ব্রুককে ফিরিয়ে দেন ২৩ বছর বয়সী এই স্পিনার।

সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৬২ বলে ক্যারিয়ারসেরা ৭৩ রান করেন ব্যান্টন। ডাকেট ৯টি চারে ৬৩ বলে করেন ৬৭ রান।

এরপর বাটলারের পাল্টা আক্রমণে আবারও ম্যাচে ফিরতে থাকে ইংল্যান্ড। জো রুটের সঙ্গে ২৮ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন বাটলার। ১৭ বলে ১৫ রান করে ফেরেন রুট।

৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করা বাটলার এরপর জ্যাকসের সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েন। কিন্তু ৩৮তম ওভারে তাঁর হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগে। ফিজিওর চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আরও দুটি বল খেলে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

তখন ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৫ বলে ৬৮ রান। এরপর ইনিংসের বাকি সময়ে পাঁচ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫২ রান তুলতে পারে তারা। এ সময়ে চার ও ছক্কা আসে একটি করে। শেষ পর্যন্ত সেটিই পার্থক্য গড়ে দেয়।

পুরোনো বলে রিভার্স সুইং পাচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কার বোলাররা। সেটি কাজে লাগিয়ে দারুণ বোলিং করেন আসিথা ফার্নান্দো ও ইশান মালিঙ্গা।

এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও চেষ্টা চালিয়ে যান জ্যাকস। বাটলার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ক্রিজে ফেরার সময় ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৪ বলে ২৭ রান। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে জ্যাকসের ছক্কায় শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২০ রান।

৪৯তম ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে জ্যাকসকে ফেরান মালিঙ্গা। এরপর বাটলার আরও ২ রান যোগ করে শেষ ওভারের প্রথম বলে আউট হলে ম্যাচের ফলও নিশ্চিত হয়ে যায়।

এর আগে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে শ্রীলঙ্কা। পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিস উদ্বোধনী জুটিতে ৪৫ রান যোগ করেন। ৩৩ বলে ২৫ রান করা নিসাঙ্কাকে দশম ওভারে ভেতরে ঢোকানো ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ করেন অ্যাটকিনসন।

এরপর ক্রিজে আসেন কুসাল মেন্ডিস। কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে ১২০ বলে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক। তবে কুসাল মেন্ডিস ১৮ রানে থাকার সময় তাঁর সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি অ্যাটকিনসন। সেই ভুলের মাশুল পরে দিতে হয় ইংল্যান্ডকে।

৬৫ বলে ৫৬ রান করা কামিন্দুকে ফিরিয়ে বড় জুটি ভাঙেন অ্যাটকিনসন। পরের ওভারে জেমি ওভারটনের বলে ৯৯ রানে থাকা কুসাল মেন্ডিসকে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আউট দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি, কারণ বল ব্যাটে লাগেনি। পরের বলেই চার মেরে সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

৩২তম ওভারে শ্রীলঙ্কার দলীয় সংগ্রহ ২০০ রান ছাড়ায়। তখন ৩৪০-এর কাছাকাছি স্কোরের আশা করছিল দলটি। তবে কুসাল মেন্ডিসের বিদায়ের পর রানের গতি কমে যায়।

চারিথ আসালাঙ্কা ভালো করতে পারেননি। পাভান রাত্নায়েকে ৩৯ বলে ৪৮ এবং জানিথ লিয়ানাগে ২৬ বলে ৩২ রান করলে তিনশ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সেই সংগ্রহই তাদের সিরিজে সমতা ফেরানোর পথ তৈরি করে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ