মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই স্পাইডার ম্যানের বিশ্বরেকর্ড
বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল টম হল্যান্ড অভিনীত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি আয় করেছে ৯২৭ মিলিয়ন ডলার, যা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং উইকএন্ড। এই তালিকার শীর্ষে এখনো রয়েছে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার আয় ছিল ১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার।
হলিউডে কোনো সিনেমা মুক্তির পর প্রথম তিন দিনের (সাধারণত শুক্রবার থেকে রোববার) আয়কে ‘ওপেনিং উইকএন্ড’ বলা হয়। একটি সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হতে যাচ্ছে, তা পরিমাপের এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি বলে ধরা হয়।
উত্তর আমেরিকার ৪ হাজার ৪৮৭টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে সিনেমাটি তুলে নিয়েছে ৩৫৫ মিলিয়ন ডলার। এই বাজারেও এটি সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ—এন্ডগেমের ৩৫৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের রেকর্ড থেকে মাত্র ২ মিলিয়ন ডলার পিছিয়ে। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশিত হলে এই ব্যবধান বদলেও যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক বাজারের ৬৬টি দেশ থেকে এসেছে আরও ৫৭২ মিলিয়ন ডলার।
দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের জন্য উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতের বাজারে ৩১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি হলিউডের যেকোনো ছবির সর্বকালের সর্বোচ্চ ওপেনিং উইকএন্ডের রেকর্ড গড়েছে। ফ্রান্স, ব্রাজিল, স্পেন, পেরু, কলম্বিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, চিলি, তুরস্ক, ইকুয়েডর ও বেলজিয়ামেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। চীনের বাজারে পাঁচ দিনে আয় হয়েছে ১২১ মিলিয়ন ডলার—উল্লেখযোগ্য, কারণ আগের পর্ব ‘নো ওয়ে হোম’ দেশটিতে মুক্তির অনুমোদনই পায়নি।
এই আয় সনি পিকচার্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ওপেনিং। সব মিলিয়ে দ্রুতই বিলিয়ন ডলার ক্লাবের দিকে এগোচ্ছে সিনেমাটি। সাম্প্রতিক সময়ে সুপারহিরো ঘরানার প্রতি দর্শকদের কিছুটা অনাগ্রহ দেখা গেলেও স্পাইডার-ম্যানের এই পর্ব ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে।
নতুন এই রেকর্ডের ফলে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা চারটি ওপেনিং উইকএন্ডের সবকটিই এখন মার্ভেলের দখলে—শীর্ষে অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (১ দশমিক ২২ বিলিয়ন), দ্বিতীয় স্থানে স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে (৯২৭ মিলিয়ন), তৃতীয় স্থানে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ (৬৪০ দশমিক ৫ মিলিয়ন) এবং চতুর্থ স্থানে স্পাইডার-ম্যান সিরিজেরই আগের পর্ব ‘নো ওয়ে হোম’ (৫৮৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার)।
মতামত দিন