স্পিকারের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, তিস্তা প্রকল্প এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ চীনকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, ১৯৭৭ সাল দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চীন সফরের মাধ্যমে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফর এই সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন স্পিকার। তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে ‘বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতার জন্য জিয়াউর রহমানের সার্ক গঠনের প্রস্তাবকে বৈপ্লবিক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সার্ক-এ পর্যবেক্ষক হিসেবে চীনের উপস্থিতি আঞ্চলিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বৈঠককালে স্পিকার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনকে কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এসব বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেন এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে অভিনন্দন জানান এবং চীন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে একটি স্মারক উপহার প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠক শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ চীনা রাষ্ট্রদূতকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি সম্বলিত একটি স্মারক উপহার দেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে