স্পেন ২ - বেলজিয়াম ১
স্পেন-বেলজিয়াম ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
ফুলটাইম | স্পেন ২-১ বেলজিয়াম: রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লা রোহা
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে দারুণ এক কোয়ার্টার ফাইনালের শেষে ২-১ ব্যবধানে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। শুরু থেকেই বলের দখল, পাসিং ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় লা রোহা। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত ফিনিশে এগিয়ে যায় স্পেন। তবে ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলেরের গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্পেন। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো ও পেদ্রো পোরো একের পর এক আক্রমণ শানালেও বারবার রুখে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে ৭২তম মিনিটে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক, যা বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তার বদলি হিসেবে নামেন সেনে লামেন্স। শেষদিকে স্পেনের অবিরাম চাপে বেলজিয়ামের রক্ষণ বারবার পরীক্ষায় পড়ে।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে আসে নির্ধারণী মুহূর্ত। পাও কুবার্সির দূরপাল্লার শট লামেন্সের হাত ফসকে সামনে পড়ে গেলে দ্রুত ছুটে এসে মিকেল মেরিনো সহজ টোকায় বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর অতিরিক্ত সাত মিনিটে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি বেলজিয়াম। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। রুদ্ধশ্বাস এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
৯০ মিনিট | যোগ হলো ৭ মিনিট, বেলজিয়ামের সামনে শেষ সুযোগ
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর ম্যাচে অতিরিক্ত ৭ মিনিট যোগ করেন চতুর্থ কর্মকর্তা। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বেলজিয়ামের সামনে এখন বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। সমতাসূচক গোল করে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপাবে রেড ডেভিলস।
অন্যদিকে, জয়ের খুব কাছাকাছি থাকা স্পেনকে এই সাত মিনিটে রক্ষণে সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
৮৮ মিনিট | লামেন্সের ভয়াবহ ভুলে গোল, মেরিনোর আঘাতে আবারও এগিয়ে স্পেন!
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নাটকীয়ভাবে আবারও এগিয়ে যায় স্পেন। দূরপাল্লার একটি শট নেন তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। বলটি সহজেই ধরে ফেলার কথা ছিল বদলি গোলরক্ষক সেনে লামেন্সের। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল হাত ফসকে সামনে পড়ে যায়। সেই সুযোগ লুফে নিতে একটুও ভুল করেননি মিকেল মেরিনো। দ্রুত ছুটে এসে ফাঁকা জালে সহজ টোকায় বল পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
কোর্তোয়ার চোটে মাঠ ছাড়ার পর নামা লামেন্সের এই ভুল বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। নিজের ভুলে হতাশ হয়ে পড়েন তরুণ এই গোলরক্ষক, আর স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে পাওয়া এই গোল স্পেনকে সেমিফাইনালের খুব কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে।
৮৫ মিনিট | স্পেনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন ডি ব্রুইন
ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে স্পেনের আরেকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ থামাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন বেলজিয়ামের অধিনায়ক কেভিন ডি ব্রুইন। দ্রুত নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করতে গিয়ে দেরিতে ট্যাকল করে স্পেনের খেলোয়াড়কে ফাউল করেন তিনি। ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার এই ট্যাকলের জন্য কোনো দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গেই ডি ব্রুইনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে পৌঁছে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ১-১ সমতায় থাকা কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিটি আক্রমণই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই হলুদ কার্ডের পর ডি ব্রুইনকে আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হবে, কারণ আরেকটি ভুল বেলজিয়ামের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
৮০ মিনিট | শেষ ১০ মিনিটে অলআউট আক্রমণে স্পেন, মাঠে নিকো উইলিয়ামস
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল নিল স্পেন। বেলজিয়ামকে প্রায় পুরোপুরি নিজেদের রক্ষণভাগে আটকে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে লা রোহা। শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
স্পেনের কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবালকে তুলে মাঠে নামানো হয় গতিময় উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামসকে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। তিনি বেলজিয়ামের ক্লান্ত ও নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজানো দলকে দুই প্রান্ত দিয়ে চাপে ফেলতে চান। নিকো উইলিয়ামসের গতি, ড্রিবলিং ও এক বনাম এক পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে হারানোর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জয়সূচক গোল আদায়ের লক্ষ্য স্পেনের।
ম্যাচের এই পর্যায়ে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য স্পেনের হলেও, বেলজিয়াম এখনও পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শেষ ১০ মিনিটে জমে উঠেছে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই।
৭৭ মিনিট | ইয়ামালের দুর্দান্ত ব্যাকহিল, সুযোগ নষ্ট করলেন পেদ্রো পোরো
ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে দর্শকদের মুগ্ধ করেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ডান প্রান্তে বল পেয়ে অসাধারণ দক্ষতায় এক চমৎকার ব্যাকহিল পাসে ওভারল্যাপ করে ওঠা পেদ্রো পোরোকে একেবারে ফাঁকা জায়গায় বল বাড়িয়ে দেন তিনি। মুহূর্তটি ছিল বেলজিয়ামের রক্ষণ ভেঙে গোলের দারুণ সম্ভাবনা তৈরির।
কিন্তু সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি পোরো। প্রথম ছোঁয়াতেই বিপজ্জনক এলাকায় ক্রস না করে তিনি অতিরিক্ত সময় নেন এবং বল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। এতেই দ্রুত ফিরে এসে নিজেদের অবস্থান গুছিয়ে নেয় বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ। ফলে স্পেনের সম্ভাবনাময় আক্রমণটি শেষ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়।
ইয়ামালের দুর্দান্ত সৃজনশীলতা ও নিখুঁত পাস দর্শকদের মুগ্ধ করলেও সতীর্থের ভুল সিদ্ধান্তে গোলের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে স্পেন। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে এমন সুযোগ নষ্ট হওয়া লা রোহার জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে রইল।
৭২ মিনিট | চোটে কোর্তোয়ার বিদায়, বড় ধাক্কায় বেলজিয়াম
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে বেলজিয়ামের জন্য আসে বড় দুঃসংবাদ। কিছুক্ষণ আগে চোট পেলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যথা আর সহ্য করতে না পেরে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
বেঞ্চে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা গোলরক্ষক। তার বদলে মাঠে নামানো হয় অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা তরুণ গোলরক্ষক সেনে লামেন্সকে। ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোর্তোয়ার মাঠ ছেড়ে যাওয়া বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ দ্বিতীয়ার্ধে স্পেন ক্রমাগত আক্রমণের চাপ বাড়িয়ে চলেছে।
৬৬ মিনিট | দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে বক্সের কিনারায় থিবো কোর্তোয়া মাটিতে বসে পড়লে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় হাইড্রেশন ব্রেকও ঘোষণা করেন রেফারি। তবে বেলজিয়ামের বেঞ্চে বদলি গোলরক্ষককে ওয়ার্ম আপ করতে দেখা যায়নি, ফলে কোর্তোয়ার চোট গুরুতর নয় বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ম্যাচের গতি কিছুটা কমিয়ে আনতেই এই বিরতি বেলজিয়ামের জন্য কাজে এসেছে।
৬৫ মিনিট | বলের দখলে এগিয়ে স্পেন, হুমকি হয়ে আছে বেলজিয়াম
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পরিসংখ্যান বলছে, বলের দখল ও পাসিংয়ে পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেছে স্পেন। এখন পর্যন্ত লা রোহা ৪০০টিরও বেশি সফল পাস সম্পন্ন করেছে, যেখানে বেলজিয়ামের পাসের সংখ্যা ১৮৯। তবে এই আধিপত্য স্কোরবোর্ডে প্রতিফলিত হয়নি। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে দ্রুত পাল্টা আক্রমণেই বারবার বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বেলজিয়াম। ফলে বলের নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে থাকলেও রেড ডেভিলস এখনও স্পেনের জন্য বড় হুমকি হয়ে রয়েছে, আর কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
৬১ মিনিট | ইয়ামালের দুর্দান্ত শট, কোর্তোয়ার অসাধারণ সেভ!
ম্যাচের ৬১তম মিনিটে আবারও স্পেনকে এগিয়ে নেওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেন লামিনে ইয়ামাল। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে কেটে এসে নিজের প্রিয় বাঁ পায়ে বক্সের বাইরে থেকেই শক্তিশালী বাঁকানো শট নেন এই তরুণ তারকা। বলটি জালে জড়ানোর মতোই ছিল, কিন্তু অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ এক সেভ করেন। তার এই অনবদ্য গোলরক্ষায় নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় স্পেন, আর ম্যাচে বেলজিয়ামকে সমতায় রাখেন কোর্তোয়া।
৬০ মিনিট | ডি কুইপারের বদলে জোয়াকুইন সেস, নতুন কৌশলে বেলজিয়াম
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে বেলজিয়াম। বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার ম্যাক্সিম ডি কুইপারকে তুলে তার জায়গায় মাঠে নামানো হয় জোয়াকুইন সেসকে। দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি আক্রমণে নতুন গতি আনতেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেন বেলজিয়ামের কোচ। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে এখন প্রতিটি পরিবর্তনই হতে পারে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই লক্ষ্যেই নতুন উদ্যমে খেলছে রেড ডেভিলস।
৫৫ মিনিট | গোলদাতা রুইজের বদলে মাঠে পেদ্রি
ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনে স্পেন। দলের হয়ে গোল করা ফাবিয়ান রুইজকে তুলে মাঠে নামানো হয় মিডফিল্ডার পেদ্রিকে। মাঝমাঠে নতুন গতি ও বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কৌশলগত পরিবর্তন করেন স্পেনের কোচ। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে এখন দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই আরও জমে উঠেছে।
৫০ মিনিট | রাসকিনের ফাউলে ফ্রি কিক পেল স্পেন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝমাঠে ফাউল করে বসেন বেলজিয়ামের নিকোলাস রাসকিন। তার চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান স্পেনের এক খেলোয়াড়, ফলে সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের পক্ষে ফ্রি কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। ম্যাচ এখন ১-১ সমতায় থাকায় বলের দখল ধরে রেখে আবারও আক্রমণ গড়ার সুযোগ পেল লা রোহা।
৪৮ মিনিট | অফসাইডে বাঁচল স্পেন, ট্রোসার্ডের সুযোগ নষ্ট
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্পেনের রক্ষণে ভুলের সুযোগ নিয়ে বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে বেলজিয়াম। দ্রুতগতির এক পাসে গোলের সামনে একেবারে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছিলেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড। তবে ঠিক সময়ে সহকারী রেফারির পতাকা উঠলে অফসাইডের সিদ্ধান্তে থেমে যায় বেলজিয়ামের সম্ভাবনাময় আক্রমণ। স্পেনের জন্য এটি ছিল বড় এক সতর্কবার্তা, আর বেলজিয়াম জানিয়ে দিল বিরতির পরও তারা আক্রমণাত্মক মেজাজেই খেলছে।
বিরতি | সমতায় বিরতিতে দুই দল
রোমাঞ্চে ভরা প্রথমার্ধ শেষে ১-১ সমতায় বিরতিতে গেছে স্পেন ও বেলজিয়াম। শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল স্পেন। ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত ফিনিশে এগিয়ে যায় লা রোহা। এরপর লামিনে ইয়ামাল দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচান থিবো কোর্তোয়া।
তবে হাল ছাড়েনি বেলজিয়াম। ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলেরের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে রেড ডেভিলস। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করে স্পেন। প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ ও গোলের সুযোগ তৈরি করায় ম্যাচটি জমে উঠেছে। দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখার অপেক্ষায় দর্শকরা।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ হলো ৫ মিনিট!
নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হওয়ার পর প্রথমার্ধে অতিরিক্ত ৫ মিনিট সময় যোগ করেছেন চতুর্থ কর্মকর্তা। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে বিরতির আগে এই সময়ে দুই দলের সামনেই রয়েছে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াইয়ে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত উত্তেজনা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
৪১ মিনিট | ডি কেটেলেরের গোলে সমতায় বেলজিয়াম
স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ অবশেষে ভাঙল ৪১তম মিনিটে। চার্লস ডি কেটেলেরে দুর্দান্ত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামকে ম্যাচে সমতায় ফেরান। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গোল হজম করল স্পেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে এই গোল ম্যাচে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। এখন স্কোরলাইন স্পেন ১-১ বেলজিয়াম।
৪০ মিনিট | ইয়ামালের শট অল্পের জন্য বাইরে
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। বক্সের ডান দিক থেকে বাঁ পায়ে শট নেন লামিনে ইয়ামাল। তবে তার নেওয়া শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। কয়েক মিনিট ধরেই বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে খেলছে স্পেন, তবে দ্বিতীয় গোলের দেখা এখনও পায়নি লা রোহা।
৩৫ মিনিট | ইয়ামালের ফ্রি কিকে দারুণ সেভ, দ্বিতীয় গোল থেকে বাঁচালেন কোর্তোয়া!
স্পেনের ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছিল ৩৫তম মিনিটে। ফ্রি কিক থেকে লামিনে ইয়ামাল নিচু হয়ে আসা দুর্দান্ত শট নেন, যা দারুণ দক্ষতায় দুই হাতে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি তিনি, ফলে বক্সে তৈরি হয় হুলস্থুল পরিস্থিতি। সৌভাগ্যবশত রিবাউন্ডে স্পেনের কোনো খেলোয়াড় বল জালে পাঠাতে না পারায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় বেলজিয়াম। প্রথমার্ধে এক গোলের লিড ধরে রেখে আক্রমণের ধার অব্যাহত রেখেছে স্পেন।
৩০ মিনিট | ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে গেল স্পেন
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেল স্পেন। বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া সুযোগে বল পেয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে জাল কাঁপান ফাবিয়ান রুইজ। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগ না রেখে বল জড়িয়ে দেন জালে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ধারালো ছিল স্পেন, আর সেই চাপেরই পুরস্কার হিসেবে এগিয়ে যায় লা রোহা। এখন স্কোরলাইন, স্পেন ১-০ বেলজিয়াম।
২৩ মিনিট | হ্রাইডেশন ব্রেক! প্রথম ভাগে সমানে সমান লড়াই, গোলের দেখা নেই
প্রথম ২৩ মিনিটে স্পেন ও বেলজিয়াম দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল স্পেন, তবে পাল্টা আক্রমণে একাধিকবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। রদ্রির জোরালো শট শেষ মুহূর্তে ব্লক করে নিশ্চিত গোল বাঁচায় বেলজিয়ামের রক্ষণ, আর জেরেমি ডোকুর পাস থেকে চার্লস ডি কেটেলেরের শটও আত্মত্যাগী ব্লকে ঠেকিয়ে দেয় স্পেন। দুই দলই সুযোগ তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
২২ মিনিট | ওয়ারজাবালকে ফাউল, ভালো জায়গায় ফ্রি কিক পেল স্পেন
ম্যাচের ২২তম মিনিটে আক্রমণ গড়তে গিয়ে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ন্গয়ের ফাউলের শিকার হন স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন ওয়ারজাবাল, কিন্তু খুব কাছ থেকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে তাকে কেটে ফেলেন ন্গয়। সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের পক্ষে ফ্রি কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। বেলজিয়ামের রক্ষণে চাপ ধরে রাখার পাশাপাশি ম্যাচের ছন্দও নিজেদের দিকে টেনে নিতে কৌশলী এই ফাউল আদায়ে সফল হন ওয়ারজাবাল। এখন সেটপিস থেকে গোলের সুযোগ খুঁজছে স্পেন।
১৮ মিনিট | রক্ষণে ফাউল, স্বস্তির নিঃশ্বাস স্পেনের!
ম্যাচের ১৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের চাপ সামাল দিতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্রি কিক আদায় করে স্পেন। বেলজিয়ামের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউলের শিকার হন ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোড়ো। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে স্পেনের পক্ষে বাঁশি বাজালে কিছুটা চাপমুক্ত হয় লা রোহা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই দ্রুতগতির আক্রমণ ও তীব্র প্রেসিং ফুটবল খেলছে, ফলে মধ্যমাঠে প্রতিটি বলের জন্যই চলছে কঠিন লড়াই।
১৫ মিনিট | ডি কেটেলেরের শট আটকে স্পেনের স্বস্তি!
ম্যাচের ১৫তম মিনিটে এবার পাল্টা আক্রমণে দারুণ সুযোগ তৈরি করে বেলজিয়াম। জেরেমি ডোকুর চমৎকার পাসে বক্সের ডান দিক থেকে বাঁ পায়ে শট নেন চার্লস ডি কেটেলেরে। শটটি লক্ষ্যভেদ করতে পারলে গোল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু স্পেনের এক ডিফেন্ডার দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি ব্লক করে দেন। ফলে আরেকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ নষ্ট হয় বেলজিয়ামের। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে, ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে জমে উঠেছে লড়াই।
১০ মিনিট | রদ্রির শটে বেঁচে গেল বেলজিয়াম!
ম্যাচের ১০ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে স্পেন। বাঁ প্রান্তে নেমে এসে দুর্দান্ত স্কিলে ফ্রি কিক আদায় করেন লামিনে ইয়ামাল। যদিও ফ্রি কিক থেকে ভালো ডেলিভারি আসেনি, তবু বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যায় বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে বক্সের ভেতর বল পেয়ে জোরালো শট নেন রদ্রি। তবে শেষ মুহূর্তে অসাধারণ আত্মত্যাগী ব্লক করে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন ন্গয়। শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এই রক্ষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বেলজিয়াম।
প্রথম মিনিট | শুরুতেই বেলজিয়ামের তীব্র আক্রমণ!
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই নিজেদের আক্রমণাত্মক মানসিকতার জানান দিল বেলজিয়াম। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে উঠে এসে আক্রমণের সূচনা করেন টিমোথি কাস্তান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বল মাঠের ভেতরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সেটি গোললাইন অতিক্রম করে বাইরে চলে যায়। ফলে গোল কিক পায় স্পেন। যদিও সুযোগ তৈরি হয়নি, তবু ম্যাচের শুরুতেই রেড ডেভিলসের এই ইতিবাচক আক্রমণ তাদের আত্মবিশ্বাসী শুরুরই ইঙ্গিত দিল।
নিশ্চিত হলো স্পেন-বেলজিয়ামের একাদশ
কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণ শুরুর আগেই প্রকাশিত হয়েছে স্পেন ও বেলজিয়ামের চূড়ান্ত একাদশ। প্রত্যাশিতভাবেই পর্তুগাল ম্যাচের কার্যকর ছকেই আস্থা রেখেছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে, তবে মাঝমাঠে কিছু চমক রেখেছেন উভয় কোচ।
স্পেনের একাদশ
গোলবারের নিচে চিরচেনা উনাই সিমন। রক্ষণভাগে ডানপ্রান্তে পেদ্রো পোরো, মাঝে পাউ কুবার্সি ও এইমেরিক লাপোর্তের জুটি, বাঁপ্রান্তে মার্ক কুকুরেয়া। মাঝমাঠে চারজনের সমন্বয়—রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের সঙ্গে দানি ওলমো ও আলেক্স বাইনা, আর ডানপ্রান্তের আক্রমণে চিরচেনা লামিনে ইয়ামাল। একক স্ট্রাইকার হিসেবে থাকছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল, যিনি এই বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম।
বেঞ্চে রাখা হয়েছে দাভিদ রায়া, মার্ক পুবিল, আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো, এরিক গার্সিয়া, মার্কোস ইয়োরেন্তে, মিকেল মেরিনো, ফেরান তোরেস, গাভি, ইয়েরেমি পিনো, হুয়ান গার্সিয়া, নিকো উইলিয়ামস, মার্তিন সুবিমেন্দি, পেদ্রি, ভিক্তর মুনোজ এবং বোর্হা ইগলেসিয়াসের মতো শক্তিশালী বিকল্পদের—যা দলের গভীরতার প্রমাণ দেয়।
বেলজিয়ামের একাদশ
গোলরক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞ থিবো কোর্তোয়াই থাকছেন বরাবরের মতো। রক্ষণভাগে টিমোথি কাস্তাইন, নাথান এনগোয়, ব্র্যান্ডন মেকেলে ও ম্যাক্সিম দে কাইপারের চতুষ্টয়। আমাদু ওনানার অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠে বড় চমক—নিকোলাস রাসকিন ও হান্স ফানাকেনের সঙ্গে ফিরেছেন কেভিন ডি ব্রুইনা, পাশাপাশি জেরেমি দোকু ও লেয়ান্দ্রো ত্রোসার। আক্রমণের নেতৃত্বে একক ফরোয়ার্ড হিসেবে শার্ল দে কেতেলার, যিনি আগের ম্যাচে জোড়া গোল করেছিলেন।
বদলি বেঞ্চে আছেন আর্থার তেয়াতে, আক্সেল ভিটসেল, রোমেলু লুকাকু, সেনে লামেন্স, মাইক পেন্ডার্স, দোদি লুকেবাকিও, টমাস মুনিয়ে, কোনি দে উইন্টার, হোয়াকিন সেইস, দিয়েগো মোরেইরা, আলেক্সিস সায়েলেমেকার্স ও মাতিয়াস ফের্নান্দেজ-পার্দো।
বিশ্লেষণ
লক্ষণীয় বিষয় হলো, ডি ব্রুইনার প্রথম একাদশে ফেরা বেলজিয়ামের আক্রমণে বাড়তি সৃজনশীলতা যোগ করতে পারে, যদিও আগের কয়েকটি ম্যাচে তার অনুপস্থিতিতেই বেশি কার্যকর দেখা গেছে দলটিকে। অন্যদিকে স্পেনের একাদশে কোনো চমক নেই—রক্ষণে নির্ভরযোগ্যতা আর মাঝমাঠে বল দখলের আধিপত্য বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন পরীক্ষায় নামছে লা রোহারা।
সোনালী প্রজন্মের শেষ লড়াইয়ে অপরাজেয় স্পেনের সামনে বেলজিয়াম
বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেন এবং বেলজিয়াম। উল্লেখ্য, ম্যাচটি মূলত শেষ ষোলো নয়, বরং কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই—উভয় দলই ইতোমধ্যে প্রি-কোয়ার্টার পেরিয়ে সরাসরি সেমিফাইনালের টিকিটের জন্য মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে দুই দলের তৃতীয়বার এবং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যায়ে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটি।
ওনানার ইনজুরিতে ধাক্কা খাওয়া বেলজিয়ামের রোলারকোস্টার যাত্রা
বেলজিয়ামের এই প্রজন্মের অনেক তারকা ফুটবলারের জন্যই এটি শেষ বিশ্বকাপ অভিযান হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ধীরগতিতে। গ্রুপ পর্বে মিসর ও ইরানের বিপক্ষে ড্র করার পর তারা গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয়। এরপর নকআউট পর্বে সেনেগালের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে রোমাঞ্চকর জয় দিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখে বেলজিয়াম, আর শেষ ষোলোয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের আক্রমণাত্মক সামর্থ্যের জানান দেয় তারা। তবে এই সাফল্যের পথে বড় ধাক্কাও খেয়েছে দলটি—মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আমাদু ওনানা এসিএল ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন, যা বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের মাঝমাঠকে দুর্বল করে দিয়েছে।
অজেয় রক্ষণে ভর করে দুর্দান্ত ফর্মে স্পেন
অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক ধীরগতিতে শুরু করলেও ২০২৪ ইউরো জয়ী স্পেন এই ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে। কাবু ভের্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পর থেকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল টানা চার ম্যাচ জিতেছে, নয়টি গোল দিয়ে একটিও হজম করেনি। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল স্নায়ুক্ষয়ী—মিকেল মেরিনোর ইনজুরি সময়ের জয়সূচক গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে দেয় স্পেন। গোলরক্ষক উনাই সিমনও গড়েছেন নজিরবিহীন কীর্তি—টানা ৬০৯ মিনিট গোল হজম না করে টুর্নামেন্টের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
ইতিহাসের পাল্লা স্পেনের দিকে ভারী
দুই দলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান একেবারে বিপরীত চরিত্রের। সব মিলিয়ে ১৩টি সরকারি মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেনের জয় ৭টি, বেলজিয়ামের ৪টি, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপ মঞ্চে অবশ্য দুই দলের ইতিহাস স্মরণীয়—১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে বেলজিয়াম এগিয়ে গিয়েছিল, আর ১৯৯০ সালে গ্রুপ পর্বে স্পেন ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল। সবশেষ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক প্রীতি ম্যাচে ব্রাসেলসে ডেভিড সিলভার জোড়া গোলে স্পেন ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল।
অপরিবর্তিত একাদশেই আস্থা রাখছেন দে লা ফুয়েন্তে
দলীয় সমন্বয়ের দিক থেকে স্পেন শিবির প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পর্তুগাল ম্যাচের একাদশ প্রায় অক্ষুণ্ণ রেখেই মাঠে নামতে পারেন দে লা ফুয়েন্তে, যেখানে দেরিতে গোল করা মেরিনোকে বদলি হিসেবেই ব্যবহারের সম্ভাবনা বেশি। ডান দিকের রক্ষণে মার্কোস ইয়োরেন্তেকে পেছনে ফেলে জায়গা পাকা করেছেন পেদ্রো পোরো, আর আলেক্স বাইনা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন নিকো উইলিয়ামসের চেয়ে, যিনি এখনও পুরোপুরি ফিট নন। আক্রমণে দলের মূল ভরসা মিকেল ওইয়ারসাবাল, যিনি সবশেষ ১৮ ম্যাচে ২৪টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন।
ডি ব্রুইনার ফেরায় মাঝমাঠ সাজাচ্ছেন গার্সিয়া
বেলজিয়াম শিবিরে ওনানার অনুপস্থিতি বড় প্রভাব ফেলছে মাঝমাঠের গঠনে। তার জায়গায় কেভিন ডি ব্রুইনাকে আক্রমণাত্মক মাঝমাঠে ফেরাতে পারেন কোচ রুডি গার্সিয়া, আর ইউরি টিলেমান্সকে নামিয়ে আনতে পারেন রক্ষণাত্মক পিভটে, যেখানে তার সঙ্গী হতে পারেন নিকোলাস রাসকিন বা হান্স ফানাকেন। আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে জোড়া গোল করা শার্ল দে কেতেলারই থাকবেন এগিয়ে, রোমেলু লুকাকু আবারও বদলি বেঞ্চেই বসতে পারেন—যদিও বেঞ্চ থেকে নেমেও গোল করেছিলেন তিনি সেদিন।
আক্রমণে বেলজিয়াম এগিয়ে, তবে রক্ষণেই যত ভয়
আক্রমণের পরিসংখ্যানে বেলজিয়াম বেশ এগিয়ে থাকলেও রক্ষণে তাদের ভঙ্গুরতা স্পষ্ট। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ম্যাচপ্রতি গড়ে ২.৫টি গোল করেছে বেলজিয়াম, যেখানে স্পেনের গড় ১.৮টি। তবে নকআউট পর্বের সবক'টি ম্যাচেই গোল হজম করেছে বেলজিয়াম, যা প্রতিপক্ষ হিসেবে কট্টর রক্ষণাত্মক স্পেনের বিপক্ষে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
অপটার পূর্বাভাসেও স্পষ্ট ফেবারিট স্পেন
পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসেও স্পেনই স্পষ্ট ফেবারিট। অপটার সুপারকম্পিউটার মডেল অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে ২৫ হাজার সিমুলেশনের ৫৮.৩ শতাংশেই জয় পেয়েছে স্পেন, বেলজিয়ামের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৯.১ শতাংশ, আর ড্রয়ের সম্ভাবনা ২২.৬ শতাংশ। অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারসহ হিসাব করলে ৬৯.৮ শতাংশ সিমুলেশনে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই লড়াইয়ের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমির টিকিট পাওয়া ফ্রান্সের বিপক্ষে।
ফেবারিটের চাপ বনাম বিদায়ী প্রজন্মের জেদ
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্ম সব দিক থেকেই স্পেনের পক্ষে কথা বলছে, কিন্তু নকআউট ফুটবলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে মরিয়া বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফেবারিটের তকমা ধরে রেখে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে চাইবে স্পেন, আর অন্যদিকে সোনালী প্রজন্মের বিদায়বেলায় নিজেদের সামর্থ্যের শেষ বিন্দু নিংড়ে দিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে চাইবে বেলজিয়আম।
মতামত দিন