নভেম্বরে আবার মুখোমুখি হতে পারে আর্জেন্টিনা-স্পেন
কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের রোমাঞ্চ থিতিয়ে আসার আগেই নতুন এক লড়াইয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফিনালিসিমা; যা মাস কয়েক আগে অনিশ্চয়তার মুখে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, আবারও সূচিতে ফিরতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরেই এই ম্যাচ মাঠে নামতে পারে।
উয়েফা ইউরো ও কনমেবল কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নের মধ্যকার এই আন্তঃমহাদেশীয় লড়াই মূলত ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে উয়েফা মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করে। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম এবং লন্ডনের একটি ভেন্যুর নামও আলোচনায় এসেছিল, এমনকি দুই দেশে দুই লেগে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবও ওঠে। তবে কোনো প্রস্তাবেই উয়েফা ও কনমেবলের মধ্যে সর্বসম্মত সমাধান না আসায় ম্যাচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি হয়ে যায়।
স্পেন ও আর্জেন্টিনা এর মধ্যে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মঞ্চে; ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে। আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ অতিরিক্ত সময় শুরুর আগেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বাকি সময় ১০ জনে খেলতে হয় দলটিকে। ফাইনালের এই হৃদয়বিদারক হারের পরই ফিনালিসিমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এসপার্ন আর্জেন্টিনার সাংবাদিক মার্তিন আরেভালোর প্রতিবেদন এবং আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ডিস্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, দুই কনফেডারেশন; কনমেবল ও উয়েফা আবারও লুসাইল স্টেডিয়ামেই ম্যাচটি আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করছে। কাতার সরকার আগেই এই ম্যাচের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বত্ব কিনে নিয়েছিল বলে জানা যায় এবং সেই চুক্তি এখনো বলবৎ থাকায় বছর শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচটি আয়োজনের একটা তাড়া কাজ করছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
তবে নভেম্বরে ম্যাচ আয়োজন করা সহজ হবে না বলেও উঠে আসছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। কারণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর-নভেম্বরে স্পেনের রয়েছে উয়েফা নেশন্স লিগের ব্যস্ত সূচি, যেখানে তাদের ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে খেলার কথা। ফলে অতিরিক্ত একটি ম্যাচের জন্য ফাঁকা সময় বের করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে কনমেবল সভাপতি আলেহান্দ্রো দমিঙ্গেস ও উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের মধ্যে সমন্বয় আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
এই ম্যাচ ঘিরে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর তিনি এখনো নিশ্চিত করেননি যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে খেলা ম্যাচটিই জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ ম্যাচ ছিল কিনা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম দোবলে আমারিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী মেসি ফিনালিসিমা, আসন্ন বাছাইপর্ব এবং এমনকি ২০২৮ কোপা আমেরিকা পর্যন্ত জাতীয় দলের সঙ্গে থাকতে পারেন। এই বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে মেসি ফের প্রমাণ করেছেন কেন তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা বলা হচ্ছে।
২০২২ সালে বর্তমান নামে ফিনালিসিমা প্রতিযোগিতা প্রথম ফিরে আসার পর লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এবার আয়োজিত হলে এটি হবে দ্বিতীয় আসর এবং লুসাইলে অনুষ্ঠিত হলে তা হবে আর্জেন্টিনার জন্য বিশেষ প্রতীকী। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতির সেই মাঠেই তাদের সামনে থাকবে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ।
যদিও উয়েফা ও কনমেবল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি, তবুও এই সম্ভাবনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে যে, লুসাইলে বিশ্বকাপ ফাইনালের বদলার মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে কিনা।
মতামত দিন