দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা
ফুটবল ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় রচনা করল দক্ষিণ আফ্রিকা। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
বুধবার (২৪ জুন) মন্টেরি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’র এক হাইভোল্টেজ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে রুখে দিয়ে এই অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। এই জয়ের পর ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে ‘রাউন্ড অব ৩২’ নিশ্চিত করল ‘বাফানা বাফানা’রা। এই গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে গেছে মেক্সিকো। আগামী ২৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সহ-আয়োজক দেশ কানাডার মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
অন্যদিকে, এই হার দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বড় ধাক্কা। নকআউট পর্বে যেতে যেখানে কেবল একটি ড্র-ই যথেষ্ট ছিল, সেখানে হেরে গিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে নেমে গেছে ‘তায়েগুক ওয়ারিয়র্স’রা। এখন টুর্নামেন্টের সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হয়ে পরের পর্বে যাওয়ার জন্য অন্য দলগুলোর ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। আর এই গ্রুপে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই অধিনায়ক কিম মিন-জায়ের একটি দুর্দান্ত হেড গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ। এরপর পিএসজি তারকা লি কাং-ইনের একটি আক্রমণ অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধের শেষের দিকে গুছিয়ে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকাও। মোফোকেনং ও মাকগোপার দুটি জোরালো আক্রমণ কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ চমৎকার দক্ষতায় প্রতিহত করলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ বাড়াতে টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ড তথা দলের মূল তারকা সন হিয়ুং-মিনকে মাঠে নামায় দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু ম্যাচের ৬০তম মিনিটে ওহ হিয়েন-গিউর জোরালো হেড রুখে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।
এর ঠিক তিন মিনিট পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৬৩তম মিনিটে এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কোরিয়ান রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মোরেমির পাস থেকে বল পান তাফেলো মাসেকো। ঠান্ডা মাথায় কোরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল।
পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের বাকিটা সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে জিনসিওবের একটি আক্রমণ প্রতিহত করে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠে ও গ্যালারিতে আবেগঘন উল্লাসে মেতে ওঠেন দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।
মতামত দিন