কাদায় চলে না গাড়ি, অসুস্থ মাকে বাঁশে ঝুলানো চেয়ারে হাসপাতালে নিলেন ছেলেরা
বেহাল সড়কের কারণে কাদা-পানি মাড়িয়ে অসুস্থ মাকে বাঁশে ঝোলানো চেয়ারে বসিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়েছে দুই ছেলেকে। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী খিয়ারমামুদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ওই গ্রামের বাসিন্দারা এমন দৃশ্য দেখেন।
জানা যায়, পুরোনো পেঁপেগাছ ভেঙে গায়ের ওপর পড়ে আহত হন ষাটোর্ধ্ব তপতী রানী। এতে তার কোমর ও বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করলেও গ্রামের কর্দমাক্ত সড়কের কারণে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
পরে উপায় না পেয়ে বাঁশের সঙ্গে দড়ি দিয়ে প্লাস্টিকের চেয়ার বেঁধে তাতে তপতী রানীকে বসানো হয়। এরপর তার দুই ছেলে গৌতম বসাক ও উত্তম বসাক কাঁধে করে প্রায় আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পার করে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান। সেখান থেকে ইজিবাইকে করে তাকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
তপতী রানীর ছেলে উত্তম বসাক বলেন, এ রাস্তা দিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হয়। আমার মাকে এই রাস্তা দিয়ে নিতে কী যে কষ্ট হলো, তা ওপরওয়ালা জানে আর আমি জানি। রাস্তা খুবই কাদা। ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রিলার চলাচলের কারণে রাস্তা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, খিয়ারমামুদপুর গ্রামের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। বর্ষায় কাদা-পানিতে চলাচল দুর্ভোগে পরিণত হয়। ভ্যান বা অন্যান্য যানবাহন চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
গ্রামের বাসিন্দা সাহেরা বেগম বলেন, এই সড়কের কারণে প্রসূতি নারীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। জরুরি সময়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শুকুর আলী জানান, সড়কটি পাকা করার জন্য ২০২২ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনো কাজ শুরু হয়নি।
বিরামপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী সুরুজ্জামান মিয়া বলেন, উপজেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে খিয়ারমামুদপুর গ্রামের সড়কটিও রয়েছে। অনুমোদন পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকা করা হবে।
মতামত দিন