Views Bangladesh Logo

পদ্মা সেতুর পিলারের পাশের মাটি অপসারণে উপকার হবে, ঝুঁকি নেই: সড়কমন্ত্রী

পদ্মা সেতুর পিলার সংলগ্ন এলাকায় মাটি অপসারণের ফলে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না, বরং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতুর পিলারের কাছ থেকে মাটি অপসারণের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, অপসারণ করা মাটি সেতুর মূল কাঠামোর অংশ নয় এবং এর সঙ্গে সেতুর পাইল বা পিলারের কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণকালে ভারী যন্ত্রপাতি, নির্মাণসামগ্রী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য নদীর তীরবর্তী কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে মাটি ভরাট করা হয়েছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই মাটি সরিয়ে ফেলার কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সময়মতো কাজটি সম্পন্ন করেনি।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকার কারণে ওই ভরাট মাটিতে ঘাস জন্মেছে এবং অনেকের কাছে সেটি স্থায়ী ভূমির মতো মনে হয়েছে। এখন মাটি অপসারণ শুরু হওয়ায় অনেকে ভুলভাবে ধারণা করছেন যে সেতুর ভিত্তি বা পিলারের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের মতামত অনুযায়ী, এই মাটি অপসারণে সেতুর কোনো ঝুঁকি নেই। বরং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা, নাব্যতা রক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য সংরক্ষণ এবং পানি চলাচল সহজ করার জন্য মাটি অপসারণ প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ঠিকাদারের চুক্তির মধ্যেই মাটি অপসারণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এ জন্য অর্থ বরাদ্দও রাখা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বিষয়টি এখন জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, শুরুতেই যদি কাজটি সম্পন্ন করা হতো, তাহলে আজ এ নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি হতো না। কেউ কেউ মনে করছেন মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এটি প্রকল্পের অসমাপ্ত একটি কাজ, যা এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মেট্রোরেলের নিচে কোনো ধরনের অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ