‘প্রিয় বন্ধু’ তোফায়েলের জন্য সোহেল রানার শোক
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে দীর্ঘদিনের বন্ধু তোফায়েলকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইকবাল হলে (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) দুজনের ছয় বছরের সহাবস্থানের স্মৃতি টেনে এনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেতা। পোস্টে তিনি লেখেন— ‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন বন্ধু বর তোফায়েল আহমেদ। সুদীর্ঘ ৬টি বছর ইকবাল হলে কেটেছে পাশাপাশি এর দুটি রুমে সুখ দুঃখ হাসি কান্না অনেক অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে তোফায়েলকে নিয়ে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল সিরাজ ভাইয়ের প্রিয় তোফায়েল বঙ্গবন্ধুর প্রিয় তোফায়েল ইকবাল হলে আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু তোফায়েল শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেল ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। আল্লাহ তোমাকে বেহেস্ত নসিব করুন।’
সোহেল রানার এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দুই বন্ধুর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি স্মরণ করছেন।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ গতকাল সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলায় জন্মগ্রহণকারী তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি ছিলেন এবং ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম উজ্জ্বল মুখ হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণা তিনিই দিয়েছিলেন। পরবর্তী জীবনে তিনি বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে