রামিসা হত্যায় আরেকজনকে জড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় সোহেল: পুলিশ
পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যা মামলায় বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং বিচারকাজ বিলম্বিত করতে প্রধান আসামি সোহেল রানা ‘ডলার’ নামে আরেকজনের নাম সামনে এনেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্তে ঘটনাস্থলে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে আবারও জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সোহেল চিৎকার করে দাবি করেন, শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ডলার নামের এক ব্যক্তি। তার ভাষ্য, তিনি কেবল রামিসাকে ‘দুই টুকরো’ করেছেন। এ দাবির বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, তদন্তে ঘটনাস্থলে সোহেল ও তার স্ত্রী ছাড়া আর কারও অস্তিত্ব মেলেনি। বিচারকাজ বিলম্বিত ও বিভ্রান্ত করতেই সোহেল এসব কথা বলছেন বলে তিনি মনে করেন।
ডলার নামে কারও অস্তিত্ব আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে নিশ্চিত হয়েছি ঘটনাস্থলে আর কেউ আসেনি। এখন সে (সোহেল) নিজেকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এসব বলতে পারে। ও ভীষণ নৃশংস প্রকৃতির। একটা ছোট্ট শিশুকে কেটে টুকরো করে হত্যার পরও ওর মধ্যে কোনো অনুশোচনা এখনো আসেনি। যার কারণে ও খুব কৌশলে বিষয়টিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।’
আদালতে সোহেল উপস্থিত আইনজীবী ও লোকজনের উদ্দেশে উচ্চস্বরে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কাটছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।’ তিনি দাবি করেন, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।
কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সোহেল বলেন, ‘ধর্ষণ ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন আপনারা, সব পাবেন।’ তার দাবি, ‘আমার স্ত্রী আমাকে সাহায্য করেনি। আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নাই। দোষ ডলারের আছে। আমার দোষ আছে, ডলারেরও দোষ আছে। আমি অত অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দুই টুকরো করছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছেও ডলার। আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আমাকে দুই লাখ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা।’
এ বিষয়ে ওসি হাসান বাসির আরও বলেন, ‘সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আমাদের স্পষ্ট করেছে যে ঘটনাস্থলে তার স্বামী ছাড়া আর কেউ আসেনি। সে (সোহেল) এখন বিচারকাজকে বিলম্বিত করার জন্য বা ঘটনাটিকে অন্য দিকে নেওয়ার জন্য এসব করতে পারে।’
গত ১৯ মে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাটে শিশু রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ভাষ্যমতে, সেদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে এবং মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না একই ঘরে ছিলেন।
ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রামিসার পরিবারকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। মাত্র পাঁচ দিনের তদন্তে ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। সোমবার ঢাকা মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে