Views Bangladesh Logo

নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এআই হতে পারে বড় নৈরাজ্যের উৎস: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বড় ধরনের নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক বিভাজনের উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে এর লক্ষণ স্পষ্ট হলেও বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো রোধে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর সক্ষমতা বা সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছু সীমিত পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপব্যবহার রোধ এখন অত্যন্ত জরুরি।

ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে মেটাকে চিঠি দেওয়াকে সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মেটার বাংলাদেশে অফিস না থাকা এবং ভাষাগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণে আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক তথ্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগানো হচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি ও গণতন্ত্র—কোনোটার জন্যই সহায়ক নয়। রাষ্ট্র নিজেই মেরুকরণ ও বিভাজনের রাজনীতিকে সমর্থন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতা থেকে বাংলাদেশ ক্রমেই সরে যাচ্ছে উল্লেখ করে জিল্লুর রহমান বলেন, এসব সংকট মোকাবিলা না করলে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হলেও কাঙ্ক্ষিত মুক্তি মিলবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ডিন এম এ বাকী খলীলীসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও উদ্যোক্তারা। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বিকাশমান হলেও নীতিগত অস্পষ্টতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ব্যান্ডউইথ ব্যয়, ডিজিটাল বৈষম্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে জবাবদিহির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ