চোরাচালান নির্ভর ব্যবসায়ীদের বাধায় দোকান খুলতে পারছেন না বৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা
চোরাচালান নির্ভর ব্যবসায়ীদের বাধায় দোকান খুলতে পারছেন না বৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা। কোথাও কোথাও দোকানের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীরা জানান, এসব শোরুমে শুধুমাত্র বিদেশি ব্র্যান্ডের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোন বিক্রি করা হয়। কিন্তু ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কর্মসূচির বিরোধী চোরাচালান নির্ভর ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের কারণে স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা শোরুম খোলায় বাধা দিচ্ছে এবং কোথাও কোথাও দোকানের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে তাদের শোরুমগুলো নিয়মিত খোলা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কে শোরুম খোলার চেষ্টা করা হলে সেগুলো জোরপূর্বক বন্ধ রাখা হয় এবং কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তার ভাষ্যমতে, ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যমুনা ফিউচার পার্কের ১২টি শোরুম মাত্র দুই দিন এবং বসুন্ধরা সিটির শোরুমগুলো মাত্র একদিন খোলা রাখা গেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে শাওমির প্রায় ১০০টি শোরুম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)। সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোন রিটেইল শোরুম জোরপূর্বক বন্ধ ও ভাঙচুরের ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিসিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানায়, এসব ঘটনার ফলে স্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতারা গুরুতর আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়েছেন এবং উৎপাদন কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১৮টি মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত চারটিতে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এসব কারখানায় মোট বিনিয়োগের পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।
বিসিসিসিআই সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সহিংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
এদিকে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (এফআইসিসিআই) ভাঙচুর ও হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান নির্ভর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এনইআইআর বিরোধী আন্দোলনকারীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সহসভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, আমাদের ধর্মঘট চললেও ব্র্যান্ড শোরুমগুলো খোলা রাখতে আমরা কাউকে বাধা দিচ্ছি না।
তিনি দাবি করেন, দেশের ৯০ শতাংশ দোকান মালিক এই আন্দোলনের পক্ষে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সরকার প্রণীত এনইআইআর সিস্টেম বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সারা দেশের চোরাচালান নির্ভর খুচরা মোবাইল ফোনের দোকান মালিকরা ১ জানুয়ারি থেকে ধর্মঘট পালন করে আসছেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে