Views Bangladesh Logo

ছোট পোশাক কারখানাকে সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়নের আওতায় আনতে হবে: সিপিডি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় নিতে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়নের আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন পাওয়ার উদ্যোগ জোরদার এবং কারখানাগুলোতে কার্বন নিঃসরণ পরিমাপের আধুনিক তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বোনাইজেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর: হাউ টু টেক ইট ফরওয়ার্ড?’ শীর্ষক সেমিনারে সিপিডির একটি বিশ্লেষণমূলক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি তৈরি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্রুত সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর ডিকার্বোনাইজেশন লক্ষ্যমাত্রার কারণে বাংলাদেশি পোশাক উৎপাদকদের স্বল্প-কার্বনভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায় যেতে হবে।

তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন ধাপে কার্বন নিঃসরণের প্রধান উৎস রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ডাইং, উইভিং, ওয়াশিং ও ফিনিশিংয়ের মতো প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ তাপ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়। পুরোনো বয়লার, প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত জেনারেটর এবং বিদেশ থেকে তুলা ও রাসায়নিক কাঁচামাল পরিবহনের কারণেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাড়ছে।

তবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। পরিবেশবান্ধব বা লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন, পোশাকের ঝুট ও উচ্ছিষ্ট পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে নতুন সুতা তৈরি এবং পানি সাশ্রয়ী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার এ খাতের সবুজ রূপান্তরকে এগিয়ে নিচ্ছে।

সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে, এই রূপান্তর টেকসই করতে নীতিগত ও প্রযুক্তিগত সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়নের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন পাওয়ার উদ্যোগও জোরদার করতে হবে।

গবেষণায় কারখানায় প্রতিদিনের কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কারখানাগুলো নিজেদের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা নির্ণয় করতে পারবে এবং তা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।

সিপিডির মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, সবুজ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও ধরে রাখা সম্ভব হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ