এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ স্কপের, ‘আন্দোলন চলবে’
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠন দুটি বলছে, তাদের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সরকার ‘জাতিকে অন্ধকারে রেখে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘সরকার জাতিকে অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ বিষয়ে আন্দোলন করে আসছেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ সমাবেশ থেকেও প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। তবে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের পোর্ট কলোনির ১২ নম্বর সড়কের শহীদ মিনারে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শনিবার বিকালে পোর্ট কলোনি ১২ নম্বর রোডের শহীদ মিনারে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনো সময় ও সুযোগ আছে। সরকারের কাছে আহ্বান, তারা যেন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।’
এদিকে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি।’
দীর্ঘদিন ধরে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এদিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা জানানো হয়।
তবে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব কোন বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হচ্ছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। শুরু থেকেই দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
মতামত দিন