দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার মাধ্যমেই দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছায়: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হয় না; আজকের চীনও নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সরকার শিশুদের উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক ও শিক্ষাসামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার উপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তারা যেন দেশের সম্পদে পরিণত হয়ে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ এবং তাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে চীনের একটি প্রতিনিধি দল সফরে আসবে। তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করবে।
তিনি আরও জানান, আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের চীন সফরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।
‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন