Views Bangladesh Logo

‘জেল খাটতে কেমন লাগে’ অভিজ্ঞতা নিতে ছয় বন্ধু মিলে শিশুকে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শিশু মো. হোসাইন (১১) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। জেল খাটতে কেমন লাগে— এমন বিকৃত কৌতূহল থেকে ছয় কিশোর পরিকল্পনা করে শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, শিশু হোসাইন বাবার সঙ্গে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। ২৪ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে প্রথমে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও চার কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

নিহত হোসাইন নারায়ণগঞ্জ সদরের শিয়া চর তক্কার মাঠ এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় হোসাইনের বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত কিশোররা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার একটি বাড়িতে আড্ডা দিত এবং মাদক সেবন করত। ঘটনার দিন তিন কিশোর আলোচনা করে কীভাবে জেল খাটার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, খুন করলে জেলে যাওয়া সম্ভব। এর কিছুক্ষণ পর পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আড্ডাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত আরও তিন কিশোর পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে সবাই মিলে হোসাইনের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর কিশোরেরা রেলস্টেশনে ফিরে মাদক সেবন করে এবং আরেক কিশোরকে মরদেহ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়। কয়েকদিন পর ঘটনা জানাজানি হলে বরিশালের নথুল্লাবাদ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন এজাহারভুক্ত। তদন্তে আরও দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। মামলার এক নম্বর আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক একজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ