জাতিসংঘে আত্মত্যাগের স্বীকৃতি পেলেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গ করা ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তরভাবে জাতিসংঘের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে পদকগুলো তুলে দেন।
মরণোত্তর সম্মাননা পাওয়া ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্তো মন্ডল।
জাতিসংঘ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সুদানের আবেই অঞ্চলে শান্তিরক্ষা দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। সে সময় তারা আবেইয়ে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের এই পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এ বছর বিশ্বের ৩৩টি দেশের মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ছয় সদস্যও রয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম বৃহৎ সৈন্য ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে