২৫ বছরের মধ্যে বিয়ে না করলে দেওয়া হয় ‘ডিম-দারুচিনির শাস্তি’
আপনার বয়স কি ২৫ ছুঁইছুঁই? অথচ এখনো অবিবাহিত? ডেনমার্কের মাটিতে পা রাখার আগে একবার ভাবুন। কারণ সেখানে কেক বা মোমবাতি দিয়ে নয়, বরং আপনার জন্মদিন উদযাপন হতে পারে কয়েক ডজন ডিম আর কয়েক কেজি দারুচিনির গুঁড়ো দিয়ে।
কেন প্রথমেই ডিম?
ডেনমার্কের এই কয়েকশ বছরের পুরনো প্রথায় ডিম হলো আসল 'ভিলেন' বা অনুঘটক। বন্ধুরা যখন কাউকে কোনো ল্যাম্পপোস্ট বা গাছের সাথে বেঁধে ফেলে, তখন তাদের প্রথম লক্ষ্য থাকে শরীরটাকে যতটা সম্ভব আঠালো করা। আর এর জন্য ডিমের চেয়ে কার্যকর আর কী-ই বা হতে পারে?
মাথায় একের পর এক ডিম ভেঙে এমন এক চটচটে অবস্থা তৈরি করা হয়, যাতে পরের ধাপে ছিটানো দারুচিনির প্রতিটি কণা শরীরে চুম্বকের মতো লেগে থাকে।
স্থানীয়রা রসিকতা করে বলেন, 'ডিম ছাড়া দারুচিনি তো স্রেফ ধুলোবালি, কিন্তু ডিমের সাথে মিশলেই তা হয়ে ওঠে স্থায়ী এক সুগন্ধি অভিশাপ!'
ঐতিহ্যের নামে ডিম-মশলার হেনস্তা
এই প্রথাটি কেবল মজা নয়, এর পেছনে রয়েছে ১৬শ শতাব্দীর এক সত্যিকার ইতিহাস। তৎকালীন ডেনিশ মশলা বিক্রেতারা বা 'পিপার ডিউডস'রা ব্যবসার নেশায় দেশ-দেশান্তর ঘুরে বেড়াতেন যাযাবর হয়ে। ফলে বিয়ের বয়স পার হয়ে গেলেও তারা ঘর বাঁধতে পারতেন না। তাদের সেই একাকীত্বকে স্মরণ করতেই আজ ২৫ বছর বয়সে দারুচিনি এবং ৩০ বছর বয়সে গোলমরিচ ছিটানোর এই রীতি। সঙ্গে তো ডিম আছেই!
উৎসব নাকি অস্বস্তি?
আপনি যদি একজন সাধারণ পর্যটক হন তাহলে আপনার চোখে এটি 'পাবলিক হিউমিলিয়েশন' মনে হতে পারে, কিন্তু ডেনিশ তরুণ-তরুণীদের কাছে এটি বন্ধুত্বের এক পরম পরীক্ষা। তবে এই 'ডিম থেরাপি'র পর পরিষ্কার হওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। কয়েকবার গোসল করার পরও শরীর থেকে ডিমের আষ্টে গন্ধ আর দারুচিনির কড়া ঘ্রাণ যেতে চায় না কয়েকদিন।
মজার বিষয় হলো, বর্তমানে ডেনমার্কে বিয়ের গড় বয়স ৩৪ থেকে ৩৫ বছর। অর্থাৎ, প্রায় প্রতিটি ডেনিশ নাগরিককেই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই 'ডিম মশলা-স্নানে' অংশ নিতে হয়। তাই ডেনমার্কে ২৫ বছর বয়সে অবিবাহিত থাকা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং বন্ধুদের সাথে একরাশ ডিম-দারুচিনি মাখার মোক্ষম সুযোগ!
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে