রোমের হোটেল বিতর্ক নিয়ে যা জানালেন জেমস
ইতালির রোমে কনসার্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা অভিযোগের মধ্যে হোটেল কক্ষ নোংরা করে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস। তাঁর দাবি, তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তি নেই।
ভেনিসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ‘নগরবাউল’খ্যাত এই শিল্পী।
তবে আয়োজকের করা চুক্তি ভঙ্গ ও টিকিট বিক্রির অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে জেমস কোনো মন্তব্য করেননি। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অবশ্য কনসার্টের পারিশ্রমিক পরিশোধ নিয়ে আয়োজকের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছেন।
রবিনের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ৩০ হাজার ইউরো পারিশ্রমিক পরিশোধের পরই জেমসের মঞ্চে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগে আয়োজকেরা পুরো অর্থ পরিশোধ করেননি।
হোটেল কক্ষ নোংরা রাখার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেমস বলেন, তাঁদের সঙ্গে অতিথিশিল্পী হিসেবে যুক্ত একজন তরুণ সংগীতশিল্পী যুক্তরাষ্ট্র থেকে গিটার ও কিবোর্ড বাজাতে এসেছিলেন। তাঁর মতে, তরুণ ওই শিল্পী হয়তো কক্ষটি পুরোপুরি গুছিয়ে রাখেননি।
জেমস বলেন, হোটেলে কক্ষ পরিষ্কার না রাখা বা এলোমেলো থাকার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এ কারণে বিষয়টিকে ‘বিগ ডিল’ বা বড় ঘটনা হিসেবে দেখার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরোর মতো জরিমানা করে থাকলেও সেটিকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন জেমস। তাঁর ভাষ্য, হোটেলে ধূমপান বা অন্য নিয়ম ভাঙলে বিভিন্ন দেশে অতিথিদের জরিমানা করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ছড়ানো অভিযোগ প্রসঙ্গে জেমস বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কেউ নিজের মতো করে কিছু লিখতে পারেন। কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই।
জেমস আরও বলেন, তাঁরা স্বাভাবিক নিয়মেই হোটেলের চাবি জমা দিয়ে বের হয়েছেন। জরিমানার বিষয়টিকে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষের একটি অভিযোগ হিসেবে দেখছেন।
হোটেল থেকে নিয়ম না মেনে বা রিসেপশনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে চলে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ইতালিতে এমন ঘটনা ঘটলে হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের আটকানোর ব্যবস্থা নিতে পারত এবং তাঁদের পাসপোর্টও হোটেলে জমা ছিল।
পারিশ্রমিক নিয়ে পাল্টা অভিযোগ
জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, জেমস মঞ্চে ওঠার আগে আয়োজকদের কাছে বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধের দাবি জানিয়েছিলেন। এ সময় তিনি ‘হয়রানির মুখে পড়েন’ বলেও অভিযোগ করেন রবিন।
তাঁর দাবি, কনসার্টস্থলে তখন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। জেমস মঞ্চে উঠতে দেরি করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থ পরিশোধ না হলেও তিনি মঞ্চে ওঠেন।
আয়োজকের অভিযোগ
রোমে জেমসের কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হয় ১৬ আগস্ট। তিন দিন পর ১৯ আগস্ট জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা হোটেল ছাড়েন। এরপর কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হোসাইন আহমেদ মোয়াজ তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক ভিডিওতেও কথা বলেন তিনি।
মোয়াজের দাবি, কনসার্টের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৩০ হাজার ইউরোর মধ্যে জেমসের দল ২৪ হাজার ইউরো পেয়েছিল। বাকি ৬ হাজার ইউরো টিকিট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে দেওয়ার কথা ছিল।
আয়োজকের অভিযোগ, রাত ৯টায় জেমসের মঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও তাঁর ব্যবস্থাপক রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে বাকি অর্থ দাবি করেন। এ নিয়ে জটিলতার কারণে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেমস মঞ্চে উঠতে পারেননি। পরে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে রাত ১০টার দিকে তাঁকে মঞ্চে তোলা হয় বলে দাবি করেন মোয়াজ।
এ ছাড়া স্পনসর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নৈশভোজসহ চুক্তির কয়েকটি শর্ত ভঙ্গ এবং টিকিট বিক্রির সঠিক হিসাব না দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
মোয়াজ আরও দাবি করেন, হোটেলের চাবি বুঝিয়ে না দিয়ে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের পাওনা না মিটিয়ে জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা চলে যান। পরে হোটেল কক্ষ নোংরা করে রাখার অভিযোগও করেন তিনি। এ জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করেছে বলে জানান আয়োজক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি কক্ষে প্লাস্টিকের পানির বোতল, আবর্জনা, ব্যবহৃত প্লেট ও খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়।
‘অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’
তবে এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন জেমসের মুখপাত্র রবিন।
তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের দল সফলভাবে কনসার্ট আয়োজন করেছে। কনসার্ট শেষ হওয়ার পর টিকিট বিক্রি, স্পনসরশিপ বা প্রচারের হিসাব আয়োজকদের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হোটেল কক্ষ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে রবিন বলেন, তাঁদের ব্যান্ডের জন্য চারটি কক্ষ বরাদ্দ ছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, রবিন ২৪৬ নম্বর কক্ষে, ব্যান্ডের নিয়মিত সদস্যরা ১৪৪ নম্বর কক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অতিথিশিল্পী ছিলেন ৫৪৯ নম্বর কক্ষে।
রবিনের দাবি, ১৯ আগস্ট তাঁরা নিয়ম মেনে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে হোটেল থেকে চেকআউট করেন। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ করেনি। তাঁরা চলে যাওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর আয়োজককে ৫৪৯ নম্বর কক্ষ অপরিষ্কার থাকার কথা জানানো হয়। তাঁর দাবি, ওই কক্ষে জেমস বা তিনি কেউই ছিলেন না।
মতামত দিন